Advertisement
E-Paper

গুলি বেরোল না দু’বার, গণপ্রহারে হত দুই দুষ্কৃতী

ভরা বাজারে ঢুকে দুই দুষ্কৃতী নিজেদের কোমরে গোঁজা ওয়ান শটার বের করে ব্যবসায়ীর কানে ঠেকিয়ে দু-দু’বার ট্রিগার টিপেছিল। কিন্তু, গুলিই বেরোয়নি! বেগতিক দেখে দুষ্কৃতীরা পালা‌নোর চেষ্টা করে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:২০
জগদ্দলের শুয়োরমারি এলাকায় গণপিটুনিতে মৃত দুই দুষ্কৃতী। বিতান ভট্টাচার্যের তোলা ছবি।

জগদ্দলের শুয়োরমারি এলাকায় গণপিটুনিতে মৃত দুই দুষ্কৃতী। বিতান ভট্টাচার্যের তোলা ছবি।

ভরা বাজারে ঢুকে দুই দুষ্কৃতী নিজেদের কোমরে গোঁজা ওয়ান শটার বের করে ব্যবসায়ীর কানে ঠেকিয়ে দু-দু’বার ট্রিগার টিপেছিল। কিন্তু, গুলিই বেরোয়নি!

বেগতিক দেখে দুষ্কৃতীরা পালা‌নোর চেষ্টা করে। ততক্ষণে লোকজন জড়ো হয়ে গিয়েছে। দু’জনকেই ধরে মাটিতে ফেলে শুরু হয় গণপিটুনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। রবিবার সকালে জগদ্দলের শুয়োরমারির ঘটনা।

পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীরা যাঁকে খুন করতে গিয়ে নিজেরাই খুন হয়ে গেল, সেই ব্যবসায়ীর নাম মনোজ চৌধুরী। ওই এলাকাতেই বাড়ি তাঁর। শুয়োরমারি বাজারে তাঁর ও তাঁর ভাই ভোলার মাংসের দোকান আছে। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার নীরজকুমার সিংহ বলেন, ‘‘মনোজের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ নেই। তবে মনোজের এক ভাইয়ের সঙ্গে অন্য কারও শত্রুতা রয়েছে। হয় তো তার জেরেই মনোজকে খুন করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।’’

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দুষ্কৃতীদের মধ্যে এক জনের নাম রবি যাদব। সে স্থানীয় পালঘাট রোডের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নানা অভিযোগ আছে। নিহত অন্য জনের পরিচয় জানা যায়নি। তবে, পুলিশের অনুমান, দু’জনেই সুপারি নিয়ে খুন করত। এক জনের জামার পকেট থেকে শিয়ালদহ থেকে শ্যামনগরের ট্রেনের টিকিট পাওয়া গিয়েছে। আর এক জনের পকেট থেকে একটি সিগারেটের প্যাকেটে রাখা ওয়ান শটারের বুলেট উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ মনোজ ও ভোলাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মনোজের দাবি, ‘‘আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কে আমাকে খুন করতে চায় তাই তো বুঝতে পারছি না।’’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ দিন সকালে ভরা বাজারে দুই ভাই পাশাপাশি দোকানে বসে মাংস বিক্রি করছিলেন। সাড়ে ১০টা নাগাদ ডেনিম জিনস, টি-শার্ট, সানগ্লাস পরে বছর তিরিশের দুই যুবক মনোজের দোকানে ঢুকে মাংস কিনতে চায়। একজন ৫০০ গ্রাম মাংস দিতে বলে। অন্য জন মনোজের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।

মাংস কেটে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে দেন মনোজ। সে সময়ে পকেট থেকে টাকা বের করার অছিলায় কোমরে গোঁজা ওয়ান শটার বের করে পাশে দাঁড়ানো যুবক। মনোজের কানে ওয়ান শটারের নল ঠেকিয়েই ট্রিগার টেপে। কিন্তু গুলি বেরোচ্ছে না দেখে সামনে দাঁড়ানো অন্য জনও আর একটি ওয়ান শটার বের করে মনোজের দিকে তাক করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেটা থেকেও গুলি বেরোয়নি।

মনোজ দোকান ছেড়ে বেরিয়ে এসে চিৎকার করতে শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে ভিড় বাজারে লোক জড়ো হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে। দুই দুষ্কৃতীই পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লোকজন তাদের ধরে ফেলে। দু’জনকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে জনতা। মাংস কাটার ছুরি দিয়ে কোপানোও হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের।

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ওয়ান শটার, পাইপগানের রমরমা বহু দিন ধরে চলছে। বিশেষ করে পুজো কিংবা ভোটের আগে দুষ্কৃতীদের আনাগোনাও বেড়ে যায় এই ঘিঞ্জি শিল্পাঞ্চলে। বিহার-সহ ভিনরাজ্য থেকে আসা দেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় লুকনো লেদ কারখানায় ওয়ান শটার ও পাইপগান তৈরির হদিস পুলিশ আগেও পেয়েছে। মধ্যমগ্রামে জোড়া খুন কাণ্ডের পরে ‘পেন-পিস্তলের’ হদিসও মিলেছিল বাদুর এক কারখানায়।

Barrackpore antisocial police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy