Advertisement
E-Paper

গ্রেফতার প্রয়াগের দুই কর্তা

সারদা, রোজ ভ্যালির পরে এ বার প্রয়াগ। মঙ্গলবার ওই বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার দুই কর্ণধার বাসুদেব বাগচী ও অভীক বাগচী-কে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৭ ০৩:৩০
ধৃত: সিবিআই হেফাজতে বাসুদেব ও অভীক। ছবি: স্নেহাশিস ভট্টাচার্য

ধৃত: সিবিআই হেফাজতে বাসুদেব ও অভীক। ছবি: স্নেহাশিস ভট্টাচার্য

সারদা, রোজ ভ্যালির পরে এ বার প্রয়াগ। মঙ্গলবার ওই বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার দুই কর্ণধার বাসুদেব বাগচী ও অভীক বাগচী-কে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

গত শনিবার উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের ফল বেরিয়েছে। সেখানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জিতেছে বিজেপি। তার তিন দিনের মাথায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা সংক্রান্ত তদন্তে। প্রয়াগের দুই কর্ণধারকে যেমন গ্রেফতার করা হল, তেমনই জেলে গিয়ে নতুন করে গৌতম কুণ্ডুকে জেরা করার অনুমতি নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রোজ ভ্যালি কর্তা এখন প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন। সেখানে গিয়ে যাতে তাঁকে জেরা করা যায়, তার জন্য বুধবারই আদালতে আর্জি জানায় ইডি। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

সূত্রের খবর, নিছক গৌতমকে জেরা বা প্রয়াগের দুই কর্তাকে গ্রেফতার নয়, এর পিছনে রয়েছে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালীর দরজায় কড়া নাড়ার পরিকল্পনা। সিবিআই সূত্র জানাচ্ছে, সারদা ও রোজ ভ্যালির তদন্তে মন্ত্রী-সান্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক-সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নাম উঠে এসেছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কাউকে কাউকে গ্রেফতারও করা হয়। রোজ ভ্যালি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে এখন জেল বন্দি হিসেবে ওড়িশার হাসপাতালে রয়েছেন তৃণমূলের দুই সাংসদ তাপস পাল ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সিবিআই-এর দাবি, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, বেশি মুনাফা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাজার থেকে প্রায় ২ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা তুলেছিল প্রয়াগ। তাদের সেই বাড়বাড়ন্তের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর। সারদা ও রোজ ভ্যালির মতো প্রয়াগের অনুষ্ঠানেও বিভিন্ন সময়ে এমন অনেক প্রভাবশালীকে দেখা গিয়েছে। তাঁরা প্রয়াগের কাছ থেকে নগদে বা অন্য কোনও
ভাবে সুবিধা নিয়েছেন বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা। বাসুদেব ও অভীককে জেরা করে ওই প্রভাবশালীদের সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সিবিআই গোয়েন্দারা।

২০১৪ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তদন্তে নামার নির্দেশ দেওয়ার পরের মাসেই প্রয়াগের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করে সিবিআই। তবে, তার পর থেকে মূলত সারদা এবং রোজ ভ্যালি নিয়ে তদন্ত চলায় অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত তেমন গতি পায়নি। এ বার প্রয়াগকে নিয়ে তদন্ত শুরু হল। সিবিআই সূত্রের খবর, একে একে অন্য বেআইনি অর্থলগ্নির বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হবে।

রোজ ভ্যালি-র ক্ষেত্রে এ দিন গৌতম কুণ্ডু ছাড়াও সংস্থার অন্য দুই কর্তা শিবময় দত্ত এবং অশোক সাহা-কেও জেরা করতে চান ইডি অফিসাররা। তাঁদের মধ্যে শিবময় রয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেলে এবং অশোক রয়েছেন ওড়িশার ঝাড়পদা জেলে। এত দিন পরে নতুন করে গৌতম ও অন্য দু’জনকে জেরা করতে হচ্ছে কেন? ইডি-র আইনজীবী অভিজিৎ ভদ্র ব্যাঙ্কশাল আদালতকে এ দিন জানান, রোজ ভ্যালি ত্রিপুরায় হোটেল এবং বিনোদন সংস্থার নামে যে ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল, সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই সূত্রেই ওঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

Prayag Group arrest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy