E-Paper

পরীক্ষা কেন্দ্রে নজরদার পেতে ভরসা পাশের স্কুলই

প্রশ্ন উঠেছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা তো আগে থেকেই স্থির ছিল। সেই হিসেবে বিএলও পদে থাকা শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়ার কথা কি আগে থেকে কমিশনকে জানিয়েছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

রাত পেরোলেই আগামিকাল, সোমবার শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। কিন্তু বিএলও-র ডিউটিতে যাওয়া শিক্ষকদের অধিকাংশ শনিবারও স্কুলে ফেরেননি বলে খবর। সোমবার পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে ক’জন শিক্ষক ফিরবেন, সেই ভরসায় না থেকে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী স্কুল থেকে শিক্ষক নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত শিক্ষক মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার ঘরে নজরদারিতে ফাঁক থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু শনিবার আশ্বাস দেন, মাধ্যমিকে কোনও বিঘ্ন ঘটতে তাঁরা দেবেন না।

প্রশ্ন উঠেছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা তো আগে থেকেই স্থির ছিল। সেই হিসেবে বিএলও পদে থাকা শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়ার কথা কি আগে থেকে কমিশনকে জানিয়েছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ? পর্ষদের দাবি, তারা জানিয়েছিল। কিন্তু কমিশনের উত্তর আসেনি। কমিশন সূত্রের পাল্টা দাবি, তারা এমন কোনও চিঠি পায়নি। পাশাপাশি কমিশনের এক কর্তার দাবি, রাজ্যে মোট শিক্ষকের অনুপাতে খুব বেশি সংখ্যক শিক্ষককে বিএলও-র কাজে নেওয়া হয়নি। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক বর্তমানে বিএলও হিসেবে কাজ করছেন। ফলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

প্রধান শিক্ষকদের একাংশের দাবি, বিএলও-র কাজে যাওয়া শিক্ষকদের বেশিরভাগই গত তিন মাসে স্কুলমুখো হননি। কলকাতার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকই বলছেন, তাঁদের শিক্ষকদের মধ্যে দু’জন গত তিন মাসে দু’-তিন দিন স্কুলে এসেছিলেন। কাজের চাপেই স্কুলে আসতে পারছেন না বলে তাঁরা জানান। এই পরিস্থিতিতে নজরদারির শিক্ষক জোগাড়ের চেষ্টা করছেন তাঁরা। টাকি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসু বলেন, “মাধ্যমিক শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। সে দিন থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক শুরু হবে। যে সব স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের সিট পড়েছে, তারা ১১ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক দিতে চাইছে না। তা ছাড়া, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাধ্যমিকে নজরদারি করে ওই শিক্ষকেরা পরের দিন থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে গার্ড না-ও দিতে চাইতে পারেন।’’

শিক্ষকদের একাংশ এ-ও বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের শিক্ষাকর্মী (গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি) নিয়োগ বাতিল হয়েছে। তার জেরে বহু স্কুলে শিক্ষাকর্মীর পদ শূন্য। ফলে পরীক্ষার কাজকর্মে অসুবিধা হতে পারে। কারণ, পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে শিক্ষাকর্মীদেরও নিয়োগ করা হয়।

এ দিন তৃণমূল ভবনে ব্রাত্য বলেন, “মাধ্যমিক পরীক্ষা যাতে বানচাল করা যায়, সে জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের তরফে। কিন্তু আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি, কোন‌ও চিন্তা নেই। কেন্দ্র চাইছে না বাঙালি ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় ভাল ফল করুক।”

রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “শিক্ষক নেই, স্কুল নেই। তৃণমূল যেখানে হাত দিয়েছে, সেখানেই দুর্নীতি। এ সব কথা কোন মুখে বলে?”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

School students Madhyamik 2026

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy