রোজভ্যালি চিটফান্ড প্রতারণায় ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ অনেক দিন আগেই শুরু করেছিল ইডি। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তারা কত টাকা ফিরিয়েছে তার হিসাব দিল এ বার। ইডি জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৬ পর্যায়ে মোট ১২৭ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা ভুক্তভোগীদের ফেরত দিয়েছে। ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৫০ জন ভুক্তভোগী সেই টাকা পেয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে ইডি জানিয়েছে, রোজভ্যালি গোষ্ঠী শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে নয়, এই চিটফান্ড প্রতারণায় ওড়িশা, অসম-সহ অন্য রাজ্যের বাসিন্দার কাছ থেকেও টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রায় ১৭ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বেআইনি ভাবে সংগ্রহ করে তারা। তদন্তে নেমে ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় রোজভ্যালির বিভিন্ন স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।
গত বছর এপ্রিলে ভুবনেশ্বর বিশেষ আদালতের নির্দেশে ইডি এই মামলায় ৫১৭ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার একটি ‘ডিমান্ড ড্রাফট’ জমা দিয়েছিল সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির (এডিসি) হাতে তুলে দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, এর ফলে আমাতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়। শুধু তা-ই নয়, টাকা ফেরতের প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটানো হয়েছে। অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে, যা আমানতকারীদের কেওয়াইসি যাচাইকরণ এবং তাঁদের দাবি সত্যতা যাচাই আরও সহজ করেছে।
আরও পড়ুন:
২০১৫ সালের মার্চ মাসে রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতমকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এর পর যত তদন্ত এগিয়েছে, একের পর তথ্য হাতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। গৌতমের পাশাপাশি, তাঁর স্ত্রী শুভ্রা কুন্ডুকেও গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে গ্রেফতার করেছিল আরও এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। দফায় দফায় রোজভ্যালি মামলায় একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। অতীতে এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছেন তদন্তকারীরা।