রাজ্যে জাতীয় পারমিটধারী পণ্যবাহী গাড়ির জন্য ফের বাধ্যতামূলক হচ্ছে ভিএলটিডি (ভেহিক্যালস লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস) চেক। পরিবহণ দফতরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে নতুন করে নথিভুক্ত হওয়া নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে ভিএলটিডি ফিটমেন্ট পরীক্ষা পুনরায় চালু করা হচ্ছে। এত দিন যে অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পরিবহণ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ওয়েবেলের তৈরি করা ব্যাক-এন্ড অ্যাপ্লিকেশন পুরোপুরি চালু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত আরটিও ও এআরটিও দফতরে এবং ভিএলটিডি প্রস্তুতকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইউজ়ার ক্রেডেনশিয়াল’ জারি করা হয়েছে। এর ফলে ফিটমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে যাচাই ও নথিভুক্ত করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ভিএলটিডি প্রস্তুতকারকদের ক্ষেত্রে এমপ্যানেলমেন্ট বা তালিকাভুক্তির পুরনো পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে গাড়ির মালিকেরা যে কোনও এআইএস-১৪০ মান্যতাপ্রাপ্ত ভিএলটিডি প্রস্তুতকারককে বেছে নিতে পারবেন। যদি সেই প্রস্তুতকারকের নাম কেন্দ্রীয় পূর্ত পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের অধীনে ভিএলটিডি মেকার পোর্টাল এবং ওয়েবেলের ব্যাক-এন্ড অ্যাপ্লিকেশনে বৈধ ভাবে নথিভুক্ত থাকে। প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে ওয়েবেলের টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে ৬৮,৫০৯টি জাতীয় পারমিটধারী পণ্যবাহী গাড়ির মধ্যে মাত্র ৩৯,০৪৮টিতে এখনও পর্যন্ত ভিএলটিডি বসানো হয়েছে। অর্থাৎ বৃহৎ সংখ্যক গাড়ি এখনও নিয়মের বাইরে। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই সব জাতীয় পারমিটধারী পণ্যবাহী গাড়িতে ভিএলটিডি বসানো বাধ্যতামূলক ছিল। এই পরিস্থিতিতে যে সব গাড়িতে এখনও ভিএলটিডি বসানো হয়নি, তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত নোটিস জারি করে গাড়ির মালিকদের অবিলম্বে নিয়ম মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নচেৎ ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে পরিবহণ দফতর। সব মিলিয়ে, ১ মার্চ থেকে রাজ্যে ভিএলটিডি সংক্রান্ত নজরদারি আরও কড়া হতে চলেছে বলেই মনে করছেো প্রশাসনিক মহল।