E-Paper

শ্যামাপ্রসাদ-শ্রদ্ধাতেও বিতর্ক, তরজায় সব পক্ষ

বিধানসভায় রবিবার সকালে শ্যামাপ্রসাদের ছবিতে শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু-সহ বিজেপির তিন বিধায়ক। এর পরেই শুভেন্দুর অভিযোগ, “বিধানসভায় যাঁরা আসেন, দলীয় প্রতিনিধি হয়েই আসেন। আজ তৃণমূলের কেউ আসেননি। রেড রোডের কর্মসূচিতেও পূর্ত দফতর যা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তা নেয়নি।”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫ ০৬:৪০
বিধানসভা ভবনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা নিবেদন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

বিধানসভা ভবনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা নিবেদন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। —নিজস্ব চিত্র।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন ঘিরে এ বার বিতর্ক বাধল। বিধানসভায় ও সরকারি স্তরে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন তৃণমূল কংগ্রেস যথাযথ ভাবে পালন করেনি বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও শুভেন্দুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের অনেক নেতাই।

বিধানসভায় রবিবার সকালে শ্যামাপ্রসাদের ছবিতে শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু-সহ বিজেপির তিন বিধায়ক। এর পরেই শুভেন্দুর অভিযোগ, “বিধানসভায় যাঁরা আসেন, দলীয় প্রতিনিধি হয়েই আসেন। আজ তৃণমূলের কেউ আসেননি। রেড রোডের কর্মসূচিতেও পূর্ত দফতর যা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তা নেয়নি। এঁরা শ্যামাপ্রসাদকে অবজ্ঞা করেন।” শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানাতে স্পিকার কোনও কারণে এ-দিন বিধানসভায় না আসতে পারলেও, ডেপুটি স্পিকার কেন আসেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। পরে বর্ধমানে শুভেন্দু জানিয়েছেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে পাঠ্যসূচিতে শ্যামাপ্রসাদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তাঁর ছবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিসে রাখা হবে।

যদিও বিরোধী দলনেতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শুভেন্দু-সহ অন্য কেউ যাওয়ার আগে আমিই বিধানসভায় গিয়ে প্রথম শ্যামাপ্রসাদের ছবিতে মালা দিয়েছি।” এ দিন মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি শাসক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-নেত্রীরাও সমাজমাধ্যমে শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, শ্যামাপ্রসাদ-শ্রদ্ধায় এই বছরে তৃণমূলের ‘সক্রিয়তা’ দৃশ্যত অনেকটাই বেশি। বিজেপি শ্যামাপ্রসাদ এবং তার সূত্রে ‘বাংলার হিন্দুদের রক্ষা’র যে ভাষ্য তুলে ধরে, সেই রাজনৈতিক পরিসরের দিকে লক্ষ্য রেখেই তৃণমূলের এমন ‘সক্রিয়তা’ কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মধ্যে।

এ দিকে, শ্যামাপ্রসাদ-প্রশ্নে ফের তরজা বেধেছে বিজেপি-সিপিএমেও। শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিবস উপলক্ষে রেড রোডে এবং লেকটাউনে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন বলে আমাদের ভারতের কোনও ভূখণ্ডে থাকার সৌভাগ্য হচ্ছে। পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় সে দিন জ্যোতি বসু নিজের দলের ঘোষিত অবস্থানের বাইরে গিয়ে শ্যামাপ্রসাদের আনা প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।” যদিও ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর পাল্টা বক্তব্য, “বিধানসভায় স্বাধীনতার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ৫৮ জন ভোট দিয়েছিলেন। সেখানে কমিউনিস্টরা সবাই, কংগ্রেস, মুসলিম লিগের কোনও কোনও সদস্য এবং হিন্দু মহাসভার একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন। ফলে, শ্যামাপ্রসাদের সমর্থনে বাকিরা, এটা কোন অঙ্কে হয়? আসলে এটা বিজেপির উদ্দেশ্যমূলক প্রচার।” সেই সঙ্গেই সুজন মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিধানসভায় ওই ভোটের আগের দিন জ্যোতিবাবু-সহ তিন জন কমিউনিস্ট সদস্য একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাকে সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Syama Prasad Mookerjee TMC Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy