দিল্লি পুলিশের ১০ দিনের অভিযানে বানচাল নাশকতার ছক! সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার সন্দেহে আট জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দু’জনকে পশ্চিমবঙ্গ আর বাকিদের তামিলনাড়ু থেকে ধরা হয়েছে। কী ভাবে, কোন সূত্রে এই ছক বানচাল করল পুলিশ, তার এক রূপরেখা মিলেছে।
কী ভাবে এই অভিযানের সূত্রপাত? চলতি মাসের ৭-৮ তারিখ দিল্লি এবং কলকাতার কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে ‘বিতর্কিত’ পোস্টার চোখে পড়ে। ‘কাশ্মীর মুক্ত করুন’, ‘কাশ্মীরে গণহত্যা বন্ধ করুন’— এমন নানা বিষয় লেখা ছিল সেই সব পোস্টারে। পোস্টারগুলি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। কে বা কারা এই পোস্টার সাঁটাল, প্রাথমিক ভাবে সেই প্রশ্নের উত্তর ছিল না নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে। তদন্তভার যায় দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের হাতে।
শুরু হয় তদন্ত। সেই তদন্তের সূত্র ধরে এ রাজ্যের মালদহ থেকে প্রাথমিক ভাবে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতেরা হলেন উমর ফারুক এবং রবিল-উল ইসলাম। গ্রেফতারির পর তদন্তকারীদের হাতে আসে ধৃতদের মোবাইল। সেই মোবাইল ঘেঁটে দেখতে গিয়েই তদন্তকারীরা তামিলনাড়ু যোগের বিষয়টি জানতে পারেন। ওই তথ্য থেকে জানা যায়, তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলায় আরও কয়েক জন সন্দেহভাজন লুকিয়ে থাকতে পারে।
সেই সূত্র ধরে তামিলনাড়ুতে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। ধাপে ধাপে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলা থেকে আরও ছ’জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতেরা হলেন, মিনাজ়ুর রহমান, মহম্মদ শবত, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শাহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল। সকলেই পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। তল্লাশির সময় তাঁদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিমকার্ড উদ্ধার হয়। প্রত্যেকেই পরিচয় লুকোতে ব্যবহার করেছিলেন জাল আধার কার্ড! ধৃত আট জনের মধ্যে সাত জন বাংলাদেশের নাগরিক।
জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পুরো জঙ্গি মডিউলটি বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শাব্বির আহমেদ নামে এক বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ধৃতদের। তাঁর নির্দেশেই চলত নানা পরিকল্পনা। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালে ভারতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন শাব্বির। তদন্তকারী সূত্রের খবর, বেশ কয়েক দিন জেলে কাটান তিনি। তবে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর যোগ দেন নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-এ-ত্যায়বায়।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারী সূত্রে খবর, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ভারত থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়েন শাব্বির। পাকিস্তানেও যাতায়াত ছিল। তদন্তকারীদের মতে, শুধু একা শাব্বির নন, আর এক বাংলাদেশি হ্যান্ডলার সইদুল ইসলামের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল ধৃতদের। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
তদন্তকারীরা ধৃতদের মোবাইল ঘেঁটে বেশ কিছু ভিডিয়ো এবং ছবি উদ্ধার করেন। সেগুলি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গোয়েন্দা তল্লাশির সময়কার। প্রসঙ্গত, শনিবারই গোয়েন্দাদের কাছ থেকে সতর্কবার্তা আসে, দিল্লির লালকেল্লার সংলগ্ন অঞ্চলে এবং রাজধানীর জনবহুল এলাকা, ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক স্থান-সহ দেশের বড় শহরগুলিতে হামলার ছক কষছে এলইটি। তদন্তকারীদের মতে, সেই ছকে থাকতে পারেন ধৃতেরা। তাঁদের অনুমান, জঙ্গি মডিউলটি ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তবে আরও কয়েক জন সন্দেহভাজন এখনও পলাতক। তাঁদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল।