মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি করে মোটা টাকার মালিক হতে চান? তার জন্য সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপিতে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এর সঙ্গে সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্কের মেয়াদি আমানতের (রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি) বেশ মিল রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে সুনির্দিষ্ট অর্থ এসআইপিতে জমা করতে হয় লগ্নিকারীদের। তার পর সেখান থেকে শেয়ার বাজারের ওঠা-নামার উপর ভিত্তি করে রিটার্ন পেয়ে থাকেন তিনি।
এসআইপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে সঞ্চিত অর্থ বৃদ্ধি পায় চক্রবৃদ্ধি হারে। ফলে সুশৃঙ্খল ভাবে গোড়ার দিকে এতে লগ্নি করতে পারলে মিলতে পারে ভাল মুনাফা। যদিও এসআইপির উপর নজর রাখলে দেখা যাবে এই অভিজ্ঞতা সব সময় মসৃণ নয়। আর তাই বহু ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হতে পারে, বলছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।
উদাহরণ হিসাবে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত চলা এসআইপিগুলির কথা বলা যেতে পারে। বহু ক্ষেত্রে এই সময়সীমার মধ্যে মুনাফা তো দূরে থাক, উল্টে টাকার অঙ্ক কমে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতারও সম্মুখীন হয়েছেন লগ্নিকারীরা। সম্প্রতি এ ব্যাপারে ‘ওয়েল্থ কনভারসেশন্স’ নামের একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ‘ফান্ডসইন্ডিয়া’ নামের ব্রোকারেজ ফার্ম। সেই রিপোর্ট তুলে ধরে এসআইপিতে লোকসানের খতিয়ান দিয়েছে সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল।
‘ফান্ডসইন্ডিয়া’র সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে নিফটি-৫০তে স্বল্পমেয়াদি বেশ কয়েকটি এসআইপি নেতিবাচক ফলাফল করেছে। বহু ক্ষেত্রে লগ্নি করা টাকার অঙ্ক একটুকুও বাড়েনি। উল্টে এক বছরে তার পরিমাণ ৬৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। দুই বা তিন বছরের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা অর্থের মূল্য কমেছে ৪০ থেকে ২২ শতাংশ।
আর্থিক বিশ্লেষকদের কথায়, এটা হওয়া একেবারেই আশ্চর্যের নয়। কারণ, এসআইপিতে লগ্নি করা টাকার অঙ্কের বৃদ্ধি পুরোপুরি ভাবে শেয়ার বাজারের উপর নির্ভরশীল। তা ছাড়া স্টকের রিটার্ন সাধারণত চক্রাকারে চলে। অল্প সময়ে এর থেকে ভাল মুনাফা পাওয়া কার্যত অসম্ভব। আর তাই লম্বা সময়ের জন্য এতে বিনিয়োগে একেবারে পৃথক চিত্র দেখা গিয়েছে।
ব্রোকারেজ ফার্মগুলি জানিয়েছে, পাঁচ থেকে সাত বছরের মেয়াদে এসআইপি করলে এর নেতিবাচক দিকটি ধীরে ধীরে ম্লান হতে থাকে। সে ক্ষেত্রে ১৭ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন পেতে পারেন সংশ্লিষ্ট লগ্নিকারী। বাজার চাঙ্গা থাকলে প্রাপ্ত মুনাফার পরিমাণ যে আরও বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এই তহবিলে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)