স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরীক্ষায় যারা দাগী চিহ্নিত হয়েছেন তাঁরা যত মাস চাকরি করেছেন সেই চাকরির বেতন সুদ সমেত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ এত দিন আগের সরকার কার্যকর করতে উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ। নতুন সরকার আসতেই এ বার দাগীদের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়ার উদ্যোগী হল। শিক্ষা দফতর একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলার জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়েছে ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় যে সব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী দাগী বলে চিহ্নিত হয়েছেন তাঁদের সুদ সমেয় বেতনের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৬ সালের এসএসসির নবম দশম এবং একদাশ দ্বাদশের দাগী শিক্ষকের সংখ্যা ১৮০৬ , এবং গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি অর্থাৎ দাগী শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা ৩৫১২ শিক্ষাকর্মী। সিবিআইয়ের এই তথ্যকে মান্যতা দিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনরও দাগী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নাম সহ বিস্তারিত তথ্য তাঁদের পোর্টালে প্রকাশ করে। এবং স্কিল সার্ভিস কমিশন যে নতুন করে ২০২৫ সালে পরীক্ষা নিয়েছে সেই পরীক্ষাতেও তাদের বসতে অনুমতি দেয়নি। তবে পরীক্ষায় বসার অনুমতি না দিলেও সুপ্রিম কোর্ট যে দাগীদের টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিল সেই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলেই অভিযোগ। এসএসসির তালিকা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষকরা যদিও বারবার দাবি করে এসেছে যে দাগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে শিক্ষা দফতর এমনকী তাঁদের টাকা ফেরতেরও কোনো উদ্যোগ দেখাচ্ছে না। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী বৈশাখী ভট্টাচার্যের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট টাকা ফেরত দিতে বললেও পূর্বতন রাজ্য সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ করেনি। নতুন সরকার এসেই এই বিষয়েনাড়া দিয়েছে।’’
বিভিন্ন জেলার শাসকরা শিক্ষা দফতর থেকে পাওয়া এই বিজ্ঞপ্তি জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) দিয়েছেন। জেলা স্কুল পরিদর্শকরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের গ্রুপে জানিয়েছেন। বৈশাখী ভট্টাচার্যের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত ও বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট টাকা ফেরত দিতে বললেও পূর্বতন সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ করেনি। নতুন সরকার এসেই এই বিষয়ে নাড়া দিয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)