বিধানসভা ভোটের সময় বার বার সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়। তৃণমূল বার বার অভিযোগ করেছিল, সুরজিৎ নন্দীগ্রামের ‘শুভেন্দু অধিকারী-ঘনিষ্ঠ’ বিডিও। শুধু তা-ই নয়, ভবানীপুরের তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি না-দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল সুরজিতের বিরুদ্ধে। ভোটপর্ব মিটতেই নতুন সরকারে ভবানীপুরের সেই রিটার্নিং অফিসারকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (সিএমও) নিয়োগ করা হল। তিনি একা নন, আরও আট জন আমলাকে সিএমও-তে আনার নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। এ ছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে কর্মরত এক আমলাকে উত্তরবঙ্গে পাঠানোর নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
নতুন সরকারের আমলে রাজ্য প্রশাসনে যে রদবদল হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল শনিবারই। রবিবার একসঙ্গে ১০ জন আমলার বদলির নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ন’জনকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ন’জনের মধ্যে দু’জন আইএএস আধিকারিক। তাঁরা হলেন ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি ও বস্ত্র দফতরের যুগ্মসচিব পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তল। এ ছাড়াও, ডায়মন্ড হারবারের এসডিও, পূর্ব মেদিনীপুর জেলাপরিষদের উপসচিব, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আধিকারিক-সহ সাত জনকে নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে। প্রত্যেককেই সিএমও-তে সিনিয়র উপসচিব করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএমও-তে যাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সুরজিৎকে নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটপর্বে তাঁকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করা নিয়ে আপত্তি তোলে তৃণমূল। কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার বদলের দাবিও জানায় তারা। তৃণমূলনেত্রী মমতা স্বয়ং এ নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেন। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে সে সময় নবান্নের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চেয়ে পাঠায় কমিশন। নবান্ন সেই মতো তিন জনের নাম পাঠায়। কিন্তু কমিশন ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার বদল করেনি। সেই রিটার্নিং অফিসারকেই আনা হল সিএমও-তে।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে (স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে) কর্মরত পবিত্র চক্রবর্তীকে বদলি করে পাঠানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। তিনি এত দিন সিএমও-তে সহকারী সচিব ছিলেন। তাঁকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে পাঠাল নবান্ন। তিনি কোচবিহারে কাজ করবেন।
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শনিবারই তাঁর ব্যক্তিগত সচিব এবং উপদেষ্টা হিসাবে যথাক্রমে শান্তনু বালা এবং সুব্রত গুপ্তকে নিযুক্ত করা হয়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একসঙ্গে ৬২ জন আমলাকে সোমবার কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পূর্বতন সরকারের কোনও না কোনও মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। আবার অনেকে ছিলেন বিভিন্ন দফতরের বিশেষ সচিবও। কেউ কেউ আবার সিএমও-তে কর্মরত। সেই বিজ্ঞপ্তি জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের নির্দেশিকা জারি হল।