×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

পদ্ম-প্রার্থীর স্বামীর মৃত্যুতে ধন্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা
চন্দ্রকোনা ২৮ এপ্রিল ২০১৮ ০৩:২৯

হুমকি, মারধর, অপহরণ— মনোনয়নের প্রথম দিন থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযোগ তুলছিল বিরোধীরা। মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্বে ফের উঠতে শুরু করে সন্ত্রাসের অভিযোগ। এ বার বিজেপি প্রার্থীর স্বামীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতেও জড়িয়ে গেল শাসকদলের নাম।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের মানিককুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের বীরভানপুর আসনে বিজেপির হয়ে মনোনয়ন দিয়েছিলেন তৃষ্ণারানি রায়। বিজেপির অভিযোগ, মনোনয়ন তোলাতে তৃষ্ণার স্বামী সুজিত রায় (৫১)-এর উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল তৃণমূলের লোকজন। চাপের মুখে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন তুলতে বাধ্য হন তৃষ্ণা। তারপরই কীটনাশক খান সুজিত। শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়। তৃণমূল জুলুমের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই ঘটনা।

বৃহস্পতিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রথম দিনই ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ান তৃষ্ণা। বিজেপি-র অভিযোগ, সুজিতের অনুপস্থিতিতে তৃষ্ণাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়ে নেয় তৃণমূলের লোকজন। তার আগে হুমকির পাশাপাশি সুজিতকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। পরিবার সূত্রের খবর, তৃষ্ণা মনোনয়ন তুলে নিয়েছেন জেনে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কীটনাশক খান সুজিত। তাঁকে ভর্তি করানো হয় ঘাটাল হাসপাতালে। শুক্রবার বেলা বারোটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।

Advertisement

বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রতন দত্তের অভিযোগ, “তৃষ্ণাকে মনোনয়ন তুলে নিতে বাধ্য করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সেই অপমানেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন সুজিত রায়।” রতনবাবুর আরও দাবি, গোটা এলাকা তৃণমূল এতটাই সন্ত্রস্ত করে রেখেছে যে অভিযোগ জানানোরও সাহস পাচ্ছে না
সুজিতের পরিবার। তবে বিজেপি নেতৃত্ব ই-মেলে ঘাটাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ মানেননি। দলের জেলা কমিটির সদস্য গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, “পারিবারিক অশান্তির কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। বিজেপি তাতে রাজনীতির রং লাগাচ্ছে।” জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়্গপুর) ওয়াই রঘুবংশী বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রের খবর, মানিককুণ্ডু পঞ্চায়েতের বীরভানপুরের যে আসনটিতে পদ্ম-প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তৃষ্ণা, সেখানে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন শর্মিষ্ঠা ঘোষ। শর্মিষ্ঠার স্বামী উজ্জ্বল ঘোষ পেশায় ভিলেজ পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ, উজ্জ্বলই মনোনয়নপত্র তোলার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। যদিও উজ্জ্বলের দাবি, “বৃহস্পতিবার থেকেই মেদিনীপুরে পুলিশের প্রশিক্ষণে আছি। সব মিথ্যে কথা।” তাঁর স্ত্রী তৃণমূল প্রার্থী শর্মিষ্ঠাও বলছেন, “আমি একজন প্রার্থী মাত্র। এর বাইরে আর কিছু জানি না।”

তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার থেকে স্বামীর মৃত্যু, কোনও কিছু নিয়ে কথা বলতে চাননি তৃষ্ণাও। তিনি শুধু বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। যা জানার পুলিশের থেকে জানুন।”

Advertisement