বাইরের লোকজন ছাত্র ভর্তিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজয়গড় কলেজের অধ্যক্ষ। হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পুলিশেরও। তাঁর সেই আশঙ্কা ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
শিক্ষামন্ত্রী বুধবার জানান, অধ্যক্ষ পুষ্পিতারঞ্জন ভট্টাচার্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করুন। কিন্তু সেই অভিযোগ প্রমাণিত না-হলে অধ্যক্ষকে তাঁর (শিক্ষামন্ত্রীর) পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি কলেজের নিজস্ব একটি কমিটি তৈরি করে এই ব্যাপারে তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী।
অধ্যক্ষ থানায় অভিযোগ করবেন কি না, জানা যায়নি। তাঁকে এবং কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি দেবব্রত মজুমদারকে ফোনে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পুষ্পিতারঞ্জনবাবুর ফোন বন্ধ ছিল আর দেবব্রতবাবুর ফোন বেজে যায়।
কেন্দ্রীয় ভাবে অনলাইনে ভর্তির ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় কলেজে কলেজে হাঙ্গামা-দাদাগিরি বাড়বে বলে অনেক অধ্যক্ষের আশঙ্কা। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে এই নিয়ে প্রায় নিত্যদিনই গোলমাল হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিজয়গড় জ্যোতিষ রায় কলেজ-কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বাইরের লোকজন সেখানে ছাত্র ভর্তিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সেখানকার অধ্যক্ষ পুষ্পিতারঞ্জনবাবু গত সোমবার অভিযোগ করেন, ছাত্র সংসদের নাম করে কয়েক জন যুবক ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ভর্তিতে এ ভাবেই বাইরের হস্তক্ষেপ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বহিরাগতদের উপদ্রব এড়াতে আগেভাগে তৎপর হওয়ার জন্য যাদবপুর থানায় চিঠি পাঠিয়ে আবেদনও জানান অধ্যক্ষ।
পুলিশকে লেখা চিঠিতে অধ্যক্ষ জানান, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে পুলিশ-প্রশাসনের সাহায্য চান তাঁরা। তাই থানা যেন এখন থেকেই তৎপর হয়। পুলিশকে সাদা পোশাকে নজরদারি চালানোর আবেদনও জানান তিনি। অধ্যক্ষের দাবি, কলেজের পরিচালন সমিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ছাত্র ভর্তি করা হবে শুধু মেধার ভিত্তিতে। কারও সুপারিশ কিংবা কোনও রকম দাদাগিরির কাছে মাথা নোয়ানো হবে না। বহু কলেজে এমন সিদ্ধান্ত রূপায়ণের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় ছাত্র সংসদ। এ ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদ অবশ্য তাঁদের সাহায্য করছে বলে জানান অধ্যক্ষ। “অথচ সেই ছাত্র সংসদের নাম করেই কয়েক জন যুবক ছাত্র ভর্তির ব্যাপারে অন্যায় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে,” বলেছেন পুষ্পিতারঞ্জনবাবু।
পুলিশে খবর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলেজেও পোস্টার লাগিয়ে ভর্তি হতে আসা ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন কলেজ-কর্তৃপক্ষ। ওই পোস্টারে বলা হয়েছে, ভর্তির ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীরা যেন কলেজ-কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কারও সঙ্গে কোনও কথা না-বলেন। বাইরের কাউকে যেন টাকাও না-দেন।
অধ্যক্ষের আশঙ্কা ও আগাম সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী এ দিন বলেন, “অধ্যক্ষ সংবাদমাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কার কথা বলেছেন। কিন্তু কে বা কারা তা করছে, সেই ব্যাপারে উনি আমাকে বা উচ্চশিক্ষা দফতরে কিছুই জানাননি। আমি চাই, উনি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করুন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না-হলে আমি কিন্তু ওঁকে পাল্টা প্রশ্ন করব।”