Advertisement
E-Paper

অনুপমের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা মায়ের

রাতারাতি মেদিনীপুর থেকে হাওড়া জেলে সরিয়ে দেওয়ায় সবং কাণ্ডে ধৃত অনুপমের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করছেন তাঁর মা প্রতিমা আদক। সোমবার মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) এজলাসে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রতিমাদেবী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৫৭
চিন্তায় অনুপমের মা প্রতিমা আদক। — নিজস্ব চিত্র।

চিন্তায় অনুপমের মা প্রতিমা আদক। — নিজস্ব চিত্র।

রাতারাতি মেদিনীপুর থেকে হাওড়া জেলে সরিয়ে দেওয়ায় সবং কাণ্ডে ধৃত অনুপমের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করছেন তাঁর মা প্রতিমা আদক। সোমবার মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) এজলাসে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রতিমাদেবী। তাঁর আর্জি, ‘‘ছেলেকে ফের মেদিনীপুর জেলেই ফিরিয়ে আনা হোক।’’

সোমবার মেদিনীপুরের সিজেএম মঞ্জুশ্রী মণ্ডলের এজলাসে সবং-মামলায় দু’টি আবেদন জমা পড়ে। একটি আবেদন জানান প্রতিমাদেবী, আইনজীবী চন্দন গুহর মাধ্যমে। অন্য আবেদনটি করেছেন অনুপমের আইনজীবী হরিসাধন ভট্টাচার্য। দু’টি আবেদনেই অনুপমকে মেদিনীপুর জেলে ফিরিয়ে আনার আর্জি জানানো হয়েছে। আইনজীবী হরিসাধানবাবুরও আশঙ্কা, ‘‘হাওড়া জেলে থাকাকালীন অন্য কয়েদিদের দিয়ে অনুপমকে মারধর করা হতে পারে। তাঁর প্রাণহানি হতে পারে। অনুপমকে দিয়ে কোনও কাগজে জোর করে সই করানো হতে পারে।’’ অনুপমের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা অবশ্য অমূলক বলে দাবি করেছেন সরকারপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব। তাঁর বক্তব্য, ‘‘নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই জেল বদল।’’ দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে সিজেএম অবশ্য দু’টি আবেদনই খারিজ করে দেন।

আজ, মঙ্গলবার অনুপমের গোপন জবানবন্দি প্রত্যাহারের আর্জি নিয়ে শুনানি রয়েছে মেদিনীপুরের সিজেএম আদালতে। তবে এ দিন অনুপমের হাজিরার দিন নেই। আদালতের তাঁর হাজিরার দিন রয়েছে আগামী ৩ অক্টোবর। সে দিন যাতে অনুপম অবশ্যই হাজির থাকেন, এ দিন সেই নির্দেশ দিয়েছেন মঞ্জুশ্রীদেবী।

Advertisement

গত শনিবার সবংয়ের কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার সাংবাদিক বৈঠকে চরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছিল জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে। সে দিনই মেদিনীপুর সংশোধনাগারে গিয়ে ধৃত ছাত্র পরিষদ কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মানসবাবু। তাঁর অভিযোগ ছিল, জেলে গিয়েও পুলিশ অনুপমকে ভয় দেখাচ্ছে। কাগজে সই করতে দিতে বলছে। গোপন জবানবন্দি প্রত্যাহার করতে চেয়ে অনুপম আবেদন জানানোর পর থেকেই পুলিশ মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেই মানসবাবুর ধারণা। এরই মধ্যে রবিবার মেদিনীপুর সংশোধনাগার থেকে আচমকা হাওড়া সংশোধনাগারে সরিয়ে দেওয়া হয় সবং কলেজের পড়ুয়া, ছাত্র পরিষদ কর্মী অনুপমকে। এডিজি (কারা) অধীর শর্মাও জানিয়ে দেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব মেদিনীপুর সংশোধনাগারে গিয়ে অনুপমকে প্রভাবিত করছিলেন। জেলা পুলিশের কাছ থেকে সে কথা জানার পরই অনুপমের এই
জেল বদল।

এ দিন আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে অবশ্য অনুপমদের আইনজীবী চন্দন গুহ বলেন, ‘‘অনুপমকে গোপন জবানবন্দি দিতে পুলিশ বাধ্য করেছে। তাই যখন ও জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানাল, তখন ওকে ঘিরে পুলিশের তত্‌পরতা বেড়ে গেল।’’ মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার আইসি সুশান্ত রাজবংশী কেন জেলে গিয়ে অনুপমকে মিথ্যা ভয় দেখাবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন ধৃত সিপি কর্মীর আইনজীবী। ছেলের উপরে পুলিশ জোর-জুলুম করছে বলে এ দিন আদালতকে জানিয়েছেন অনুপমের মা-ও। আবেদনে প্রতিমাদেবীর বয়ান, ‘ছেলের সঙ্গে জেলখানায় দেখা করতে গেলে ও শুধু কাঁদত। বলত, মা আমাকে পুলিশ বাঁচতে দেবে না। আমাকে দিয়ে পুলিশ মিথ্যা কথা কোর্টে বলিয়েছে। আমি বোধহয় আর বাঁচব না। প্রতিমাদেবীর অভিযোগ, গত শনিবার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার আইসি সুশান্ত রাজবংশী অনুপমকে পুজোয় জামা-টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়েছেন। পক্ষান্তরে একটা কাগজে সই করিয়ে নিতে চেয়েছেন। সই না করলে ছেলের জীবন শেষ করে দেওয়ার হু
মকিও দিয়েছেন।

প্রতিমাদেবীর বক্তব্য, ‘‘রবিবার দুপুরের পরে হঠাৎ একটা ফোন আসে। আমি ফোন ধরতেই ছেলের গলা শুনি। ও কাঁপা-কাঁপা গলায় বলে, ‘মা আমাকে মেদিনীপুর থেকে হাওড়া নিয়ে যাচ্ছে।’ কে নিয়ে যাচ্ছে, কেন নিয়ে যাচ্ছে, আর কোনও উত্তর পাইনি। ওই নম্বরে ফোন করেছি বারবার। সঙ্গে সঙ্গে কেটে দেওয়া হয়েছে।’’ আদালতে তাঁর আর্জি, ছেলের সঙ্গে যেন মেদিনীপুর জেলেই দেখা করতে পারি, সেই সুরাহা
করা হোক।

অনুপমের আইনজীবী হরিসাধনবাবু এ দিন তাঁর উপরে পুলিশের অত্যাচার সম্পর্কে জেল কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট তলবেরও আর্জি জানান। সরকারি আইনজীবী অবশ্য দু’টি আবেদনই খারিজ করার পক্ষে সওয়াল করেন। সরকারপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব বলেন, ‘‘আইনে ধারণা ও শোনা কথার কোনও মূল্য নেই। অত্যাচার যে হয়েছে, তার প্রমাণ কোথায়? এ সব মনগড়া কথা। এডিজি (কারা) পারেন, বিচারাধীন আবাসিককে রাজ্যের যে কোনও সংশোধনাগারে সরাতে। অবশ্যই নির্দিষ্ট কারণে। কী কারণে ওকে মেদিনীপুর থেকে হাওড়ায় সরানো হয়েছে, কারা দফতর সেই রিপোর্ট আদালতে পাঠিয়েও দিয়েছে।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘একবার গোপন জবানবন্দি দিলে তা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকে না।’’

এ দিন শুনানির সময় সিজেএম অনুপমের মা প্রতিমাদেবীকে এজলাসের ভিতরে ডেকে নেন। সিজেএমের মতে, ‘‘ওঁর এই শুনানি শোনা দরকার।’’ শুনানির সময় আইনজীবীদের মুখে যখন বারবার অনুপমের নাম ঘুরছে, তখন চোখ ছলছল করছিল প্রতিমাদেবীর। পরে চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘‘আমার ছেলেকে দিয়ে পুলিশ মিথ্যে বলিয়ে নিয়েছে। ও ঘটনার কিছু
জানে না।’’

এ দিকে সোমবারই মেদিনীপুরের সিজেএম আদালতের সরকারপক্ষের আইনজীবীর বদল হয়েছে। আগে সরকারপক্ষের আইনজীবী ছিলেন দীপক সাহা। তাঁর বদলি হয়েছে। দীপকবাবুর জায়গায় সরকারপক্ষের আইনজীবী হিসেবে যোগ দিয়েছেন সৈয়দ নাজিম হাবিব। নাজিম হাবিব আগে এই আদালতেরই সরকারপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। মাস দেড়েক আগে কাঁথিতে বদলি হয়ে যান তিনি। ফের মেদিনীপুরে ফিরিয়ে আনা হল তাঁকে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy