Advertisement
E-Paper

অপহরণের নাটক, দিঘা থেকে উদ্ধার ছাত্র

দু’বছরের ঘনিষ্ঠতা। এক জন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। অন্য জন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। একই স্কুল দু’জনেরই। কিন্তু আপত্তি পরিবারের লোকজনের। অতঃপর বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে অপহরণের নাটক ফেঁদে বাবার থেকে ঘুরপথে টাকা আদায়ের চেষ্টা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ২১:০০

দু’বছরের ঘনিষ্ঠতা। এক জন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। অন্য জন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। একই স্কুল দু’জনেরই। কিন্তু আপত্তি পরিবারের লোকজনের। অতঃপর বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে অপহরণের নাটক ফেঁদে বাবার থেকে ঘুরপথে টাকা আদায়ের চেষ্টা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাগুইআটি থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নাটকে যবনিকা টানতে বাধ্য হল ছাত্র-ছাত্রী দু’জনেই।

ভিআইপি রোডের ধারে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পড়ুয়া তারা। পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে ছাত্রটি পুরনো দিঘার এক হোটেলে গা ঢাকা দিয়ে বসেছিল। একটি জাল সিমকার্ড জোগাড় করে তা থেকে দিঘায় বসেই নিজের অভিভাবকদের কাছে এসএমএস পাঠায় সে। সেই এসএমএস-এ লেখা ছিল, তাঁদের পরিবারের ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ছাড়াতে হলে পাঁচ লক্ষ টাকা লাগবে। গত শনিবার ছাত্রটি বাড়ি ছাড়ে। রবিবার ওই এসএমএস পান তার অভিভাবকেরা। সোমবারই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাত্রের পরিবার।

ঘটনার তদন্তে নেমে যে সিমকার্ড থেকে ওই ছাত্রের পরিবারের কাছে অপহরণের এসএমএস এসেছিল সেটির কল ডিটেল রিপোর্ট খতিয়ে দেখা শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীরা দেখেন ওই নম্বরটি থেকে একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ২৮ বার ফোন গিয়েছে। সেই নম্বরটির খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ ওই ছাত্রীর সন্ধান পায়। এর পরে বাগুইআটি থানায় ছাত্রীটিকে ডেকে এনে চাপ দিতেই সে সব ঘটনা স্বীকার করে নেয়। সঙ্গে নিজের মোবাইল থেকে ফোন করে তার বন্ধুকে দিঘা থেকে ফিরে আসতে বলে।

Advertisement

ছেলেটির ফেরার অপেক্ষা না করে সোমবার রাতেই বাগুইআটি থানার পুলিশ আধিকারিকেরা দিঘা পৌঁছে হোটেল থেকে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার তাকে বারাসত আদালতে পাঠানো হয় গোপন জবানবন্দি দেওয়ার জন্য।

তদন্তকারীরা জেনেছেন, ছাত্র-ছাত্রীটির সম্পর্ক নিয়ে বাড়ির লোকজনের সায় নেই দেখে ওই ছাত্রটি এক বন্ধুর থেকে পরামর্শ চেয়েছিল। সেই বন্ধুই তাকে পরামর্শ দিয়েছিল অপহরণের নাটক ফাঁদতে। যাতে বাবার থেকে টাকা আদায় করে আলাদা ব্যবসা শুরু করা যায়। এবং ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে অর্থের জন্য অন্য কারও ওপর নির্ভর না হয়। বাগুইআটি থেকে একটি জাল সিমকার্ডও সে সংগ্রহ করে ছাত্রটি। যার আসল মালিক থাকেন বাঁকুড়ার কোতলপুরে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy