দলের দুর্দিনে সবং-কাণ্ডকে হাতিয়ার করে সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টায় নামল কংগ্রেস। সবংয়ের সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদ কর্মী কৃষ্ণপ্রসাদ জানা খুনে পুলিশি ভূমিকার প্রতিবাদে ও কলেজের অধ্যক্ষকে গ্রেফতার ও সেখানে সন্ত্রাসের বাতাবরণ কাটিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ফেরানোর দাবিতে লাগাতার অবস্থানের ডাক দিলেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। আর কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও বললেন, ‘‘বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলার প্রতীক কৃষ্ণপ্রসাদ জানা।’’
সবংয়ে ছাত্র হত্যার ঘটনায় এ দিন রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার পানিপারুল থেকে গ্রেফতার করা হয় সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের সিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন গঙ্গোপাধ্যায়কে। জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাওয়ার পর থেকে পলাতক ছিলেন সৌমেন। পরিবারের লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এ দিন পানিপারুল থেকে সৌমেনকে গ্রেফতার করা হয়। ৭ অগস্ট কলেজ চত্বরে গোলমালের সময় লাইব্রেরির কাছে সৌমেনকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে। কৃষ্ণপ্রসাদকে খুনের ঘটনার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
ছাত্র পরিষদের ৬২ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালনে শুক্রবার দু’টি সভা হয়। একটি সবংয়ে কৃষ্ণপ্রসাদের স্মরণসভা। অন্যটি কলকাতায় মহাজাতি সদন লাগোয়া রাস্তায় ‘কৃষ্ণপ্রসাদ জানা মঞ্চ’ বেঁধে সভা। এ দিন সবংয়ে মানসবাবু বলেন, ‘‘সবংয়ে পুলিশি নির্যাতন চলতে থাকলে আমি ছাত্রদের নিয়ে সোমবার বেলা ১২টা থেকে কলেজের সামনে অবস্থান শুরু করব। পরে জেলা ও কলকাতায় আমাদের অবস্থান চলবে। আমি দেখতে চাই, পুলিশ সুপার কত দূর যেতে পারেন!”
সবংয়ের তেমাথানিতে এ দিন কৃষ্ণপ্রসাদের স্মরণসভায় ছিলেন কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্র, দলের সাধারণ সম্পাদক খালেদ ইবাদুল্লা, অজয় ঘোষ, কনক দেবনাথ, মহম্মদ রফিক, জেলা কংগ্রেস সভাপতি বিকাশ ভুঁইয়া প্রমুখ। মঞ্চে কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে বসেছিলেন কৃষ্ণপ্রসাদের দাদা নারায়ণ জানা ও হরিপদ জানা। নারায়ণ বলেন, “আমরা চাই, আমার ভাইকে কলেজের যেখানে খুন করা হয়, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনা হোক।”
সভায় আগাগোড়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান কংগ্রেস নেতারা। সোমেনবাবু বলেন, “ছাত্ররা আতঙ্কে। প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে বের হলে ভারতী ঘোষদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।” মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ দিনই কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভায় বলেছেন, ‘‘আমি চাই, খুনের তদন্ত হোক। যারা দোষী, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হোক। ঝোলা থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়বে!’’ পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের নাম না করে কলকাতায় এ দিন অধীর বলেন, ‘‘পুলিশ বলতে পারে, দিদি ঘাবড়াবেন না। কিন্তু মানুষের বিচারই শেষ কথা।’’ ওই সভাতেই সবং কাণ্ডের সূত্র ধরে তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক দেন ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, বর্তমান সভাপতি আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন ছাত্র নেতা এবং অধুনা বিধায়ক অসিত মিত্র, মনোজ চক্রবর্তী প্রমুখ। এআইসিসি নেতা রাজ বব্বর ওই সভায় বলেন, ‘‘কৃষ্ণপ্রসাদ জানাকে মেরেছে খাকি উর্দি পরা গুন্ডারা।’’
২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এ দিন অধীরের বার্তা, ‘‘সংখ্যা শেষ কথা বলে না। নেতা হচ্ছে মোষের শিংয়ের উপরে সর্ষে দানার মতো। মোষ শিং ঝাড়া দিলেই সর্ষে দানা পড়ে যায়। রাজ্যবাসীও নড়ে উঠলেই আপনি (মমতা) কালীঘাটের গঙ্গায় উপুড় হয়ে পড়বেন।’’ ২০১৬-র প্রস্তুতি নিতেই আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন অধীর।