প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠছে। রাজ্যে, রাজ্যের বাইরেও। ছত্তীসগঢ়ে স্থানীয় যুবকদের হাতে চাবুকের বাড়ি খেয়ে বাড়ি ফিরে শুক্রবার সাগরদিঘিতে হাসপাতালে ভর্তি হন স্থানীয় ডিহিবরজ গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক ইয়াদুল হোসেন। তাঁর সঙ্গেই প্রহৃত হয়েছেন সীতেশনগরের নিয়ামত শেখ ও হুকারহাটের হানিফ শেখ। তাঁরা বাড়িতেই রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই কারণে মুর্শিদাবাদেরই রানিতলার কামাল হোসেনকে মারধর করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে জেলার আজিমগঞ্জের মানিক সরকার, সায়ন পণ্ডিত, সামিউন মিঞা, তারক ঘোষ ও রাহুল দাস নামে পাঁচ যুবককে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আজিমগঞ্জ স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে নিমতলা ঘাটের দিকে যাওয়ার সময় কামালকে মারধর করা হয়। কামালের অভিযোগ, ‘‘প্রথমে দু’জন নেশাগ্রস্ত যুবক নাম জিজ্ঞাসা করে। তার পরে ‘তোরা বাবরি মসজিদ করছিস’ বলে বেধড়ক মারধর করে।” ছত্তীসগঢ়ে প্রহৃত ইয়াদুল বলেন, “গত শনিবার দুপুরে ছত্তীসগঢ়ের নারায়ণপুরে ৭-৮ জন যুবক ‘তোরা মুর্শিদাবাদের, তোরা বাবরি মসজিদ বানাচ্ছিস, তোরা বাংলাদেশি’, বলে হাত-পা বেঁধে তারের চাবুক দিয়ে মারে। তাদের কপালে তিলক ছিল। কোনও মতে ফিরেছি।’’
পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের রাজ্য সভাপতি সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আইনের পথে যাচ্ছি আমরা।’’ মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের প্রস্তাবক তৃণমূলের নিলম্বিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘বাবরি মসজিদ তৈরি হবে বলে যদি কেউ আক্রান্ত হন, প্রতিবাদ করছি। সংযত হতে বলছি।’’ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘বাংলার মানুষের উপরে হামলা বন্ধ করতেই হবে।’’
এ দিনই উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের রামকৃষ্ণ পল্লি এলাকায় দেবানন্দ সানা (৩৬) নামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ ফিরেছে গোয়া থেকে। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ তাঁর বন্ধুদের মারফত পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, পুলিশ ওই যুবককে স্থানীয় ভাস্কো থানায় নিয়ে গিয়েছে। বুধবার সকালে গোয়ার এক হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফোনে জানানো হয়, দেবানন্দ হাসপাতালে ভর্তি। শুক্রবার ফের হাসপাতালের তরফেই পরিবারকে জানানো হয়, দেবানন্দের মৃত্যু হয়েছে। এই রহস্য-মৃত্যু নিয়ে খোঁজ নিচ্ছে বসিরহাট জেলা পুলিশ। দেখা হচ্ছে ময়না-তদন্তের রিপোর্ট।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)