Advertisement
E-Paper

অষ্টমীর রাতে মৃত্যু তিন বন্ধুর

স্কুল জীবনের বন্ধু। বাড়িও একই এলাকায়। কাজের সূত্রে দূরে সরে গেলেও বন্ধুত্ব তাঁদের প্রতি পুজোয় কাছে টেনে আনত। যার ব্যতিক্রম হয়নি এ বারও। ঝাড়গ্রামের লাগোয়া মানিক পাড়ার শেখ আক্রম (২৩), অর্পণ পালিত (২৩) ও রাকেশ মান্না (২৪) এ পুজোয় ঠিক করেছিলেন, মহাষ্টমীর খাওয়া দাওয়াটা এ বার তাঁরা সারবেন খড়্গপুরের নতুন এক বিরিয়ানির দোকানে। বুধবার, মহাষ্টমীর বিকেলে বন্ধুর নতুন কেনা গাড়িতে আরও ছ’জন বন্ধুকে নিয়ে তাই খড়্গপুরে রওয়ানা হয়েছিলেন আক্রমেরা। কিন্তু পৌঁছান হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৫ ০১:২৮

স্কুল জীবনের বন্ধু। বাড়িও একই এলাকায়। কাজের সূত্রে দূরে সরে গেলেও বন্ধুত্ব তাঁদের প্রতি পুজোয় কাছে টেনে আনত। যার ব্যতিক্রম হয়নি এ বারও।

ঝাড়গ্রামের লাগোয়া মানিক পাড়ার শেখ আক্রম (২৩), অর্পণ পালিত (২৩) ও রাকেশ মান্না (২৪) এ পুজোয় ঠিক করেছিলেন, মহাষ্টমীর খাওয়া দাওয়াটা এ বার তাঁরা সারবেন খড়্গপুরের নতুন এক বিরিয়ানির দোকানে।

বুধবার, মহাষ্টমীর বিকেলে বন্ধুর নতুন কেনা গাড়িতে আরও ছ’জন বন্ধুকে নিয়ে তাই খড়্গপুরে রওয়ানা হয়েছিলেন আক্রমেরা। কিন্তু পৌঁছান হয়নি। কলাইকুণ্ডা ফাঁড়ির জটিয়ার কাছে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন অর্পণ, রাকেশ এবং আক্রম। আহত অন্য ৬ জনের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁদের। রায়গঞ্জ পলিটেকনিকের সিভিল ইঞ্জিয়ারিংয়ের ডিপ্লোমা নিয়ে পাশ করেছিলেন শেখ আক্রম। সদ্য যোগ দিয়েছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগে। মেদিনীপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের বিএইচএমএস কোর্সের ছাত্র ছিলেন অর্পণ আর রায়গঞ্জ পলিটেকনিক থেকে সদ্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করেছিলেন রাকেশ। বাসিন্দারা জানান, প্রতি বার পুজোর ছুটিটা আক্রম ও তাঁর বন্ধুদের কাছে ছিল, পুনর্মিলন। দিন তিনেক আগে বাড়ি ফিরেছিলেন আক্রম। ঠিক করেছিলেন সবাই মিলে অষ্টমীর সন্ধ্যায়, বন্ধু অমিতাভ মাইতির নতুন কেনা গাড়িতে খড়্গপুর যাবেন। সেই মতো বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সকলে।

Advertisement

পুলিশ জানায়, নান্টু মেহেরা নামে এক যুবক গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বিকেল ৪টে নাগাদ খেমাশুলি ছাড়িয়ে জটিয়ার কাছে আচমকা গাড়ির সামনের একটি চাকা ফেটে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে একটি গাছে ধাক্কা মারে গাড়িটি। আর সেই ধাক্কায় গাড়ির উপরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গাছটি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুবিশাল গাছটির গাড়ির পিছনের দিকটা প্রায় গুঁড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। ঘটনাস্থলেই মারা যান, আক্রম ও অর্পণ। গুরুতর জখম অন্যদের মেদিনীপুর মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া পথেই মারা যান রাকেশ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরে, আহত ছ’জনের মধ্যে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এক জনকে। কটকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এক যুবক। আহত অন্য জনের চিকিৎসা হচ্ছে মেদিনীপুর মেডিক্যালে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy