অবশেষে সরকারি ভাবে প্যাকেজ ট্যুরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হল ঝাড়গ্রাম। রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীনস্থ পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের মাধ্যমে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ঝাড়গ্রামে সরকারি প্যাকেজ ট্যুর চালু হচ্ছে। অন লাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে আগামী ২৮ তারিখ উদ্বোধনী প্যাকেজ ট্যুরে ঝাড়গ্রাম বেড়ানোর সুযোগ পাবেন ২৪ জন পর্যটক। কলকাতা থেকে বাতানুকুল বাসে করে পর্যটকদের নিয়ে আসা হবে এক রাত দু’দিনের জন্য। দেখানো হবে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা। কিন্তু বেসরকারি প্যাকেজ ট্যুরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরকারি প্যাকেজ ট্যুর কতটা পর্যটকদের টানতে পারবে সেই প্রশ্ন উঠেছে! কারণ, জঙ্গলমহলে বেসরকারি প্যাকেজ ট্যুরের প্রধান আকর্ষণ হল বেলপাহাড়ির বিভিন্ন এলাকা। অথচ সরকারি প্যাকেজ ট্যুরে সেই বেলপাহাড়ি-ই নেই! এ ছাড়া সরকারি প্যাকেজ ট্যুরটি পনেরো দিন অন্তর হবে।
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এমডি সি মুরুগনের অবশ্য দাবি, “আমরা এক রাত দু’দিনের উদ্বোধনী প্যাকেজে ঝাড়গ্রাম মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় জায়গাগুলি পর্যটকদের দেখানোর ব্যবস্থা করেছি। আপাতত প্রতি পনেরো দিন অন্তর ঝাড়গ্রাম প্যাকেজ ট্যুরটি হবে। একসঙ্গে সব জায়গা দেখানো সম্ভব নয়। বেলপাহাড়ি কেন্দ্রিক প্যাকেজ চালু করারও চিন্তা ভাবনা হচ্ছে।” এমডি জানান, আগামী ২৮ তারিখ সকালে কলকাতা পর্যটন কেন্দ্র থেকে পর্যটকদের বাতানুকুল বাসে করে সরাসরি গোপীবল্লভপুরের হাতিবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। পর্যটকদের ঝিল্লিবাঁধ, নয়াগ্রামের সুবর্ণরেখা তীরবর্তী রামেশ্বর মন্দির ও তপোবন ঘুরিয়ে দেখানো হবে। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি সংলগ্ন ইকো ট্যুরিজম কমপ্লেক্সে রাত্রিযাপন করবেন পর্যটকরা। পরদিন ঝাড়গ্রাম রাজপ্রাসাদ, সাবিত্রী মন্দির, চিল্কিগড় কনকদুর্গা মন্দির ও ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানা দেখে বাতানুকুল বাসে কলকাতায় ফেরা। এক রাত দু’দিনের জন্য এই সরকারি প্যাকেজ ট্যুরের জনপ্রতি খরচ (থাকা, খাওয়া ও পরিবহণ) ৩,৬৮০ টাকা।
অন্য দিকে, ঝাড়গ্রামের বেসরকারি সংস্থাগুলির প্যাকেজ ট্যুরে দু’রাত তিন দিনের জন্য জনপ্রতি খরচ (থাকা, খাওয়া ও পরিবহন) পড়ে ৩ হাজার টাকা। প্রতিদিন এমন প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা রয়েছে। কলকাতার মিতা রায়, শিবরাম গুহ, তন্ময় তালুকদারের মতো পর্যটকরা আগে বেসরকারি প্যাকেজ ট্যুরে ঝাড়গ্রাম বেড়িয়ে গিয়েছেন। তন্ময়বাবুদের কথায়, “বেলপাহাড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনও তুলনাই হয় না। সরকারি প্যাকেজে বেলপাহাড়ি না থাকার কারণটা বুঝলাম না।” ঝাড়গ্রামের একটি বেসরকারি প্যাকেজ ট্যুর সংস্থার কর্ণধার সুমিত দত্ত এবং আর একটি বেসরকারি পর্যটন সংস্থার ম্যানেজার নিখিল মণ্ডলরা বলেন, “সরকারি প্যাকেজ ট্যুর নিয়ে আমরা মোটেই চিন্তিত নই। কারণ, আমাদের প্যাকেজ মূলত পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা বেলপাহাড়ি কেন্দ্রিক। পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পর্যটকদের দাবিতে আমরা বেলপাহাড়ির পাহাড় ঘেরা বিভিন্ন অঞ্চলে হোম স্টে’র ব্যবস্থাও করতে চলেছি।”
একসময় পর্যটনকে ঘিরেই কাঁকড়াঝোর, লালজল, গাডরাসিনির মতো এলাকার বাসিন্দাদের বাড়তি আয় হত। ফলে, সরকারি প্যাকেজ ট্যুরে বেলপাহাড়ি না থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠছে। বিনপুরের সিপিএম বিধায়ক দিবাকর হাঁসদার প্রশ্ন, “মুখ্যমন্ত্রী দাবি করে থাকেন জঙ্গলমহল সম্পূর্ণ শান্ত। তাই যদি হয় তাহলে সরকারি প্যাকেজ ট্যুরে বেলপাহাড়ি নেই কেন?” প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, এক সময়ের মাওবাদী ধাত্রীভূমি বেলপাহাড়িতে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া কতটা নিরাপদ সেটা প্রশাসনিকস্তরে খতিয়ে দেখে তবেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে। পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এমডি সি মুরুগন সম্প্রতি বেলপাহাড়ির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “বেলপাহাড়ির ঘাগরা, খাঁদারানি, গাডরাসিনি, কাঁকড়াঝোর ও লালজলের মতো এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন ও সমীক্ষা করেছি। এসব এলাকায় পর্যটকদের জন্য কিছু পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তার আগেই অবশ্য আমরা প্যাকেজ ট্যুরে বেলপাহাড়িকে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলব।”