দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে পাহাড়ের পর্যটনকেন্দ্রের দরজা খুলেছে পুজোর আগেই। আর এরই মধ্যে শুরু হল জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব।
সোমবার দুপুরে রঘুনাথপুর শহরের উপকণ্ঠে দশম বর্ষ জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী। উদ্বোধনের পরে জেলাশাসক জানান, জয়চণ্ডী পাহাড়ের পর্টকদের থাকার জন্য কটেজ তৈরি শুরু হয়েছে। যুবকল্যাণ দফতরের টাকায় পাহাড়ের অপর প্রান্তে ১৩০ শয্যার যুব আবাসের নির্মাণ কাজ শেষ। কারা এই আবাস পরিচালনা করবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরে ফ্রেবুয়ারি মাসের মধ্যেই তা চালু হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তাঁরা।
সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার বহু দৃশ্যের শ্যুটিং হয়েছিল এই জয়চণ্ডী পাহাড়ে। তার পর থেকেই নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে পর্যটনের মরসুমে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয় পাহাড়ে। বাম আমলে প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার উদ্যোগে পাহাড় ঘিরে পর্টযনকেন্দ্র গঠনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল পর্যটন উৎসব। পর্যটকদের টানতে উৎসব কমিটির স্লোগানই ছি— ‘আসুন হীরক রাজার দেশে’। বছরের শেষ সপ্তাহে পাঁচ দিনের এই উৎসব প্রথম থেকেই জনপ্রিয়তা পায়। তবে, ঘটনা হল বাম আমলে ওই উৎসব শুরু হলেও পর্যটনকেন্দ্র তৈরির প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে রাজ্যে পালাবদলের পরেই। পাশাপাশি উৎসবের পরিচালনার দায়িত্বও গিয়েছে শাসকদলের হাতে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরকে ঘিরে পর্যটন বিকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মহকুমা এলাকার তিনটে মূল পর্যটনস্থান, রঘুনাথপুরের জয়চণ্ডী পাহাড়, নিতুড়িয়ার গড় পঞ্চকোট পাহাড় ও সাঁতুড়ির বড়ন্তি— তিন জায়গাতেই পর্যটনকেন্দ্র গড়ার কাজ শেষ পর্যায়ে। জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী জানান, রাজ্য পর্টন দফতর ও কেন্দ্র সরকারের বরাদ্দ অর্থে জয়চণ্ডীতে কটেজ শুরু হয়েছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে সাঁতুড়ির বড়ন্তির কটেজ। জানুয়ারির মধ্যেই শুরু হবে গড় পঞ্চকোটের কটেজ। জেলাশাসক বলেন, ‘‘প্রশাসন এলাকার পর্যটনের বিকাশে বীজ বপণের কাজটা করতে পারে। রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকায় দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটাই করা হয়েছে। এর পরে এলাকার পর্যটনের সার্বিক বিকাশের জন্য বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।” রাজ্য পর্যটন দফতরের কাছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকা ও অযোধ্যাতে বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণে বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছে বলে দাবি ডিএম-এর।
এ দিকে, জয়চণ্ডী পাহাড়ের পর্যটনকেন্দ্র তৈরি হলেও পর্যটনের সার্বিক বিকাশে আরও কিছু কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন উৎসবের উদ্যোক্তারদের একাংশ। এ দিন উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কমিটির কার্যকরী সভাপতি সুকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘পর্যটনের বিকাশের যে লক্ষ্যে এই উৎসব শুরু হয়েছিল, তার একাংশ পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পাহাড়ে দ্রুত নানা মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।” পাশাপাশি পর্যটনের বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগকে এলাকায় টেনে আনতে পরিকাঠামো তৈরি করা দরকার। আর সে ক্ষেত্রে প্রশাসন ও স্থানীয় পুরসভাকে আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুকুমারবাবুরা। যদিও পাহাড়ের একাংশে রস্তাঘাট তৈরিতে ইতিমধ্যেই পুরসভা উদ্যোগী হয়েছে বলে দাবি করছেন উৎসব কমিটির সম্পাদক তথা রঘুনাথপুরের পুরপ্রধান ভবেশ চট্টোপাধ্যায়।
সোমবার উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুই অভিনেতা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় এবং সৌরভ সাহা। ছিলেন রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল, এসডিপিও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকালের দিকে এসেছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতোও। এ দিন স্থানীয় শিল্পীদের দলগুলি যোগ দিয়েছিল। কমিটির কর্মকর্তারা জানান, পাঁচ দিন ধরেই সত্যজিত রায়ের নামাঙ্কিত মূলমঞ্চে চলবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীরা ছাড়াও যোগ দেবে কলকাতার বিভিন্ন শিল্পী ও সংস্থা।