বিধানসভা ভোটে জোট-সম্ভাবনা নিয়ে সোমবার তাঁদের বক্তব্য শুনবেন দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি। তাই রবিবার রাতেই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছেন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী-সহ কংগ্রেসের একদল নেতা। সূত্রের খবর, রাহুল গাঁধীর মুখোমুখি যে রিপোর্ট হাতে অধীরেরা বসবেন, তার সার কথা একটাই— কোনও ভাবেই আর তৃণমূলের সঙ্গে জোট নয়!
এ কথা ঠিক যে, জোট নিয়ে দলীয় নেতা-নেত্রীদের মন বোঝার কোনও ক্ষেত্র এত দিনে তৈরি করে উঠতে পারেননি অধীর। সিপিএম ইতিমধ্যেই দলের বিভিন্ন স্তরে ও বাম শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় জোট নিয়ে বৈঠক শুরু করে দিয়েছে। অথচ কংগ্রেসে এখনও কার্যত কোনও পূর্ণাঙ্গ বৈঠকই হয়নি যেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, সিপিএম না তৃণমূল— কার সঙ্গে জোট চান নেতা-কর্মীরা।
সেই কারণেই দিল্লি পৌঁছে নেতারা আগে কিছুটা ‘হোমওয়ার্ক’ করে নেবেন বলে খবর। এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে, রবিবার রাতেই রাজধানীতে এক সাংসদের বাড়িতে বসে নিজেদের যুক্তি সাজিয়ে নেবেন তাঁরা। কংগ্রেস সূত্রের খবর, নিজেদের মত ‘ব্যক্তিগত স্তর’ থেকে বলার জন্যই দিল্লির বৈঠকে থাকার কথা সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মানস ভুঁইয়া, মহম্মদ সোহরাব, মৌসম বেনজির নূর, আবু হাসেম (ডালু) খান চৌধুরী, দীপা দাশমুন্সি, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, অমিতাভ চক্রবর্তী, ওমপ্রকাশ মিশ্রদের। দলীয় সূত্র বলছে, এই নেতাদের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শুনে রাহুল শেষ পর্যন্ত রাজ্যের হাতেই সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিলে আচমকা গুছিয়ে ওঠা মুশকিল হবে। তাই আগে থাকতেই ‘সুর বাঁধার’ হোমওয়ার্ক।
এমনিতে কংগ্রেসের সামনে এখন তিনটি রাস্তা খোলা— তৃণমূলের সঙ্গে জোট, বামেদের সঙ্গে বোঝাপড়া এবং কোনওটাই না করে একা লড়া। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, অধীরের প্রতিনিধি দলে এমন কেউ কার্যত নেই, যিনি তৃণমূলের সঙ্গে জোট চান। তাই রাহুলের সামনে তৃণমূল-বিরোধী স্বরই তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা।
সূত্রের দাবি, প্রদেশ নেতারা রাহুলকে বলতে চলেছেন, অতীতে জোট করেও কী ভাবে বারবার বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। কী ভাবে ২০০৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে লোকসভা ভোটে সাফল্যের পরে রেল মন্ত্রককে ‘ব্যবহার’ করে নিজেকে ‘ভাবী মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। আবার সেই তিনিই এখন কংগ্রেসকে ধূলিসাৎ করতে মরিয়া! প্রদেশ নেতাদের রিপোর্টে এ-ও লেখা হয়েছে, বাম জমানায় সিপিএমের
সঙ্গে লড়াইয়ে বহু রক্তক্ষয় হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সিপিএম আধিপত্যের রাজনীতি (পলিটিক্স অব ডমিনেশন) করত। কিন্তু তৃণমূল করছে নিকেশ করে দেওয়ার রাজনীতি (পলিটিক্স অব এলিমিনেশন)!
এক নেতার কথায়, ‘‘হাইকম্যান্ডকে বোঝাতে চাই, তৃণমূলের সঙ্গে গেলে রাজ্যে দলটার অস্তিত্ব রাখাই মুশকিল হবে!’’ কারও কারও অবশ্য সন্দেহ, জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভূমিকার কথা মাথায় রেখে হাইকম্যান্ড শেষ পর্যন্ত বাংলায় একা লড়ার কথাই বলতে পারে। রাজ্যে কংগ্রেসের একাংশও তা-ই চায়। কিন্তু অন্য একাংশের মত, একা লড়ে তৃণমূলকে কোনও বেগ দেওয়া অসম্ভব! তার চেয়ে সরাসরি জোট সম্ভব না হলেও বামেদের সঙ্গে বোঝাপড়া করা ভাল।
রাহুলের সঙ্গে বৈঠকের ফল জানার আগে আপাতত প্রকাশ্যে কংগ্রেসকে বার্তা দেওয়া বন্ধই রাখছেন বামেরা। আলিমুদ্দিনে শুক্রবার বামফ্রন্টের বৈঠকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বুঝিয়েছেন, তৃণমূলের মোকাবিলায় তাঁরা বৃহত্তর ঐক্য চান। তাই কোনও দল না দেখে সমস্ত মানুষকে পাশে চাইবেন। এ দিন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও বলেছেন, ‘‘আমরা জনগণের জোটের কথা বলছি। তৃণমূলের স্বরূপ মানুষ প্রথমে বুঝছিলেন না। এখন বুঝতে পারছেন। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁরাই ঠিক করবেন, কোন দিকে থাকবেন!’’