শহরের বাতানুকুল বাসের জানালার কাচে ঢালাও বিজ্ঞাপন ফের একটি নির্ভয়া-কাণ্ড ঘটাতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন উঠল কলকাতা হাইকোর্টে। স্বেচ্ছাসেবী একটি সংস্থার জনস্বার্থে দায়ের করা একটি মামলায় শুক্রবার ওই প্রশ্ন ওঠে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের ডিভিশন বেঞ্চে এ দিন ওই মামলার শুনানি ছিল। প্রধান বিচারপতি রাজ্যের জিপি-র উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘‘বিজ্ঞাপন নিয়ে কোনও নীতি কি এ রাজ্যের রয়েছে। মুম্বই-সহ কয়েকটি রাজ্যে কিন্তু বিজ্ঞাপন নিয়ে নীতি রয়েছে।’’ এই ব্যাপারে ছ’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
জনস্বার্থ-মামলার আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এ দিন আদালতে অভিযোগ করেন, শহরের বিভিন্ন বাতানুকুল বাসের কাচের জানালা বিজ্ঞাপনে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বাসের ভিতর কী ঘটছে তা রাস্তার পথচারীরা জানতে পারছে না। যে কোনও দিন দিল্লির নির্ভয়া-কাণ্ড ঘটতে পারে। ওই আইনজীবী জানান, বহির্জগতের বিজ্ঞাপন নিয়ে এ রাজ্যের কোনও নীতি নেই। সেই নীতি জরুরি সাধারণ মানুষের জন্য।’’ আদালতে হাজির রাজ্য সরকারের কৌঁসুলি প্রধান বিচারপতিকে জানান, এই ব্যাপারে কলকাতা পুরসভা নীতি তৈরি করতে পারে।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের অন্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী রাজ্য সরকারের কৌঁসুলির উদ্দেশে বলেন, ‘‘এই ভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া পরিবহণ আইনের বিরোধী হতে পারে। বাসের যাত্রীরা তেমন হলে বিপদ এড়াতে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচতে পারেন।’’
শহরে যত্রতত্র হোর্ডিং লাগানো নিয়ে এর আগেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। এ দিন প্রধান বিচারপতি ফের হোর্ডিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘আমার তো মনে হয়, ৩০ শতাংশ পথ দুর্ঘটনার কারণ হোর্ডিং। শহর হোর্ডিংয়ে ছেয়ে যাচ্ছে।’’
প্রধান বিচারপতি এ দিন হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন, কলকাতা স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন, কলকাতা ট্রাম কোম্পানি, নর্থবেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন, সাউথ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কপোর্রেশন ও রাজ্য ভূতল পরিবহণ সংস্থাকে এই মামলায় যোগ করতে।