Advertisement
E-Paper

দক্ষিণের কড়চা

প্রতিদিন তিনি দেবতা। কেবল একদিন তিনি প্রিয়। সারা বছর তিনি ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, শ্রীচৈতন্য। কিন্তু ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিনে তিনি শুধু শচীর কোল আলো করা সদ্যোজাত শিশু নিমাই। পরনে লাল চেলি, হাতে চুষিকাঠি। চারপাশে ছড়ানো ঝিনুক-বাটি, ঝুমঝুমি। ভক্তিতে নয়, বিরাট শিশু সেদিন অপত্য স্নেহে সিক্ত।

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৪ ০০:৩০

মহাপ্রভুর দোল

ঝিনুকে ঝুমঝুমিতে

প্রতিদিন তিনি দেবতা। কেবল একদিন তিনি প্রিয়। সারা বছর তিনি ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, শ্রীচৈতন্য। কিন্তু ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিনে তিনি শুধু শচীর কোল আলো করা সদ্যোজাত শিশু নিমাই। পরনে লাল চেলি, হাতে চুষিকাঠি। চারপাশে ছড়ানো ঝিনুক-বাটি, ঝুমঝুমি। ভক্তিতে নয়, বিরাট শিশু সেদিন অপত্য স্নেহে সিক্ত। দোলের রঙিন দিনে চারপাশে অবিরল রঙের ধারা। এমন দিনে তাঁকে ঘিরে বাত্‌সল্য রসের অবিরল প্রবাহ। বিষ্ণুপ্রিয়া সেবিত মহাপ্রভু মন্দিরে দোল আসে অন্য ভাবে। ১৪৮৬, দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যায় জন্ম নিলেন গোরাচাঁদ। সেই স্মৃতিকে স্মরণে রাখতে বৈষ্ণবসমাজ দোল পূর্ণিমাকে বদলে দিলেন গৌরপূর্ণিমায়। চৈতন্যজন্মের প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর পরেও চৈতন্যধামে দোলের দিন তাই শুধুই মহাপ্রভুর আবির্ভাব উত্‌সব। মহাপ্রভুর মন্দিরে, জন্মস্থানে এ দিন আবির কুমকুম নয়, প্রস্তুত থাকে সুগন্ধি অভিষেক বারি, পঞ্চামৃত। দোলপূর্ণিমার সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ উঠলেই বেজে ওঠে শতেক শাঁখ, ঘণ্টা, মৃদঙ্গ, মন্দিরা। শুরু হয়ে যায় মহাভিষেক। চৈতন্য বিগ্রহের প্রতীক হিসেবে জগন্নাথ মিশ্রের গৃহে পূজিত ‘রাজরাজেশ্বর’ শিলাকে ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করানোর পর ষোড়শোপচারে হয় অভিষেক বা অন্য ‘জাতকর্ম’। গৌরাঙ্গদেবকে পরানো হয় শিশুর চেলি। সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় কীর্তন থেকে আরতির সুর।

নাটমন্দিরের নহবত খানার সানাই আলাপ জমায় বসন্ত রাগে। রাত যত গড়ায় নাটমন্দিরের হোরিকীর্তনের লয় ততই ঘন হয়ে আসে। পরদিন অন্নপ্রাশন। লাল চেলিতে শিশু সাজে ধামেশ্বর মহাপ্রভুর দুর্লভ দর্শনে ভক্তেরা আসেন শিশুর খেলনা নিয়ে। খাদ্য তালিকায়, তরকারি থেকে মিষ্টি সবই ৫৬ রকম করে। রুপোর থালা বাটি গ্লাসে থরে থরে সাজানো সে সব। প্রায় দু’কুইন্টাল চালের অন্ন চুড়ো করে সাজানো। চারপাশে ভিড় করে আছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয় স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে আর একটি পরিচয়ের কথাও। মহাপ্রভু মন্দিরের বিগ্রহের হাত দু’খানি সামনে প্রসারিত। গৌর এখানে প্রচলিত ঊর্ধ্ববাহু নন। কেননা, তিনি বুঝি এ ভাবেই দেখা দিয়েছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়াকে। তখন সন্ন্যাসী চৈতন্যের কাছে যাওয়ার অনুমতি ছিল না গৃহকোণে একরকম নির্বাসিত নিমাই-জায়ার। কিন্তু সারা নবদ্বীপ সে দিন ভেঙে পড়েছিল, ঘরের ছেলে সন্ন্যাসী হয়ে নগরীতে ফিরেছেন বলে। তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন হাজারো মানুষ। গিয়েছিলেন বিশ্বম্ভর জননীও। শুধু একা নিজের ঘরে বসে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন একদা রাজপণ্ডিতের ঘরের কন্যা বিষ্ণুপ্রিয়া। হঠাত্‌ই তিনি যেন সে দিন অনুভব করেন পরিচিত অঙ্গসুবাস, স্পর্শ। নির্ভুল অনুমানে মাথা তুলে দেখেন সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং গৌর। বিষ্ণুপ্রিয়ার দিকে তিনি হাত দু’টি বাড়িয়ে রয়েছেন। সেই রূপেই তাঁর মূর্তিও তৈরি হয় পরে। সেই মূর্তিই এ দিন সেজে উঠবে অভিষেক লগ্নে। খাদ্যের সুঘ্রাণ, ধূপের সুগন্ধের সঙ্গে মিশে যাবে আরতির কীর্তনের সুর। তিনি এলেই যে বসন্ত আসে।

নবাবের ধন

কে বলবে ৩০০ বছর আগে এই বাংলাতেই ছিল গোটা বিশ্বের অন্যতম ধনী শহর? সেখানকার ঐশ্বর্যভাণ্ডার দেখে ইংরেজরাও তুলনা করেছিলেন তত্‌কালীন লন্ডনের লোম্বার্ড স্ট্রিটের সঙ্গে, যেখানে ইউরোপীয় ব্যাঙ্কগুলির দফতর ছিল। সেই শহরের নাম মুর্শিদাবাদ। খোদ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেতনভুক ইতিহাসবিদ রবার্ট ওরম এবং ইংরেজ সেনানায়ক রবার্ট ক্লাইভ এ কথা লিখে রেখে গিয়েছেন। মুর্শিদাবাদ নিয়ে এমনই অনেক তথ্য জানালেন ইতিহাসবিদ সুশীল চৌধুরী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও লন্ডনের রয়্যাল হিস্টরিক্যাল সোসাইটির ফেলো সুশীলবাবুর মুর্শিদাবাদ নিয়ে গবেষণা গোটা বিশ্বের জানা। সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘মুর্শিদাবাদ ইন হিস্ট্রি’। ঘণ্টাখানেকে তিনি তুলে ধরলেন রেশম বাণিজ্যের গল্প থেকে জগত্‌ শেঠের মতো ব্যবসায়ীদের আভিজাত্যের ব্যাখ্যা। শেষে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্বও। পরে দেখানো হয় শতরূপা সান্যালের তথ্যচিত্র মুর্শিদাবাদ: দ্য সিটাডেল অফ বেঙ্গল নবাবস। ঘটনাচক্রে, সে দিনই সুশীলবাবু আক্ষেপ করছিলেন, মুর্শিদাবাদ নিয়ে যথেষ্ট ইতিহাসনির্ভর কাজ হয়নি। ২০০৪-এ যখন এ শহর ৩০০ বছরে পা দেয়, তখনও ইতিহাসের অঙ্গনে প্রত্যাশিত চর্চা হয়নি। কলকাতার ৩০০ বছরের তুলনায় তো কিছুই নয়। মুর্শিদাবাদে এখনও আকরের অভাব নেই। ভবিষ্যতে কেউ কাজ করবেন, এই আশাটুকুই জিইয়ে রইল।

বহে নিরন্তর

নারীদিবসের সকাল। উত্তরপাড়ার রাস্তায় মিছিল বেরিয়েছে। কেবল পথ অতিক্রম করা নয়, যুগ অতিক্রম করা মিছিল। ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে মুক্তির দাবির সঙ্গে সঙ্গে, অশিক্ষার থেকেও মুক্তির দাবিতে তখন সোচ্চার হুগলির এই প্রাচীন জনপদ। জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের যোগ্য ভাবশিষ্য অলোকনাথ চট্টোপাধ্যায়, অমরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, উপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়রা বললেন, চাই মেয়েদের স্কুলও। এ দিকে রয়েছে হাজার বছরের সংস্কারের পিছুটান। নানা বিরোধিতা, নিন্দা-মন্দের মধ্যেই ১৯৪০ সালে একটি ছোট বাড়ি ভাড়া নিয়ে মেয়েদের স্কুল চালু করে দিলেন ওঁরা। প্রথম প্রধানশিক্ষক শ্যামসুন্দর বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্রী আনতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার। ১৯৪৮-এ সরকারি স্বীকৃতি পেল উত্তরপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। সেই স্কুল এখন নিজের জমিতে তিনটি ভবন নিয়ে এক ঐতিহ্যময় প্রতিষ্ঠান। ৮ মার্চ নজরকাড়া ট্যাবলো সাজিয়ে হাজার দেড়েক ছাত্রী, শিক্ষিকা, অভিভাবক ও প্রাক্তনীরা ৭৫ বছরের গৌরবের পথচলাকেই স্মরণ করলেন। প্রধানশিক্ষিকা বিনতা কুণ্ডু জানালেন, এক বছর ধরে প্লাটিনাম জয়ন্তী পালন হবে।

না পলাশ

খোঁপায় পলাশ গুঁজে আর নাচ নয়। গলায় পলাশের মালাও নৈব নৈব চ। ফাল্গুনী হাওয়ায় শালবীথির শুকনো পাতারা মুখর হয়ে ওঠার মুখেই অনন্ত পলাশে শান্তিনিকেতন চেনা চেহারায় ফিরেছে। প্রতি বারই বোলপুর স্টেশন থেকে ভুবনডাঙা, শ্যামবাটি এমনকী আশ্রমের বিভিন্ন গেটের মুখে দেদার বিকোয় পলাশ। গেরুয়া-পিঙ্গল-রক্তাভ বসন্ত উত্‌সবে কণ্ঠ-বাজু-কব্জিতে পলাশ পরায় শেষতক দাঁড়ি টেনে দিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসনকেও। আশ্রমের বিভিন্ন জায়গায় পড়েছে ‘না-পলাশ’ পোস্টারও। বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সভার সম্পাদক কিশোর ভট্টাচার্য জানান, কয়েক বছর ধরেই ‘পলাশ নিধন’ বন্ধ করতে তত্‌পর কিছু আশ্রমিক। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারাও সতর্ক রয়েছে।

জীবনের রং

এখানে খুশির রং নেই। কচি মুখগুলোয় থ্যালাসেমিয়ার দীর্ঘ ছায়া। তবু হরেক রঙের আবিরে ওদের কয়েক ঘণ্টা বসন্তের স্বাদ দিতে বসন্তোত্‌সবের আয়োজন করেছে শ্রীরামপুরের রমেশচন্দ্র দেব স্মৃতিরক্ষা সমিতি। এ বারই প্রথম নয়। ১১ বছর ধরে চলে আসা এই অনুষ্ঠানের পোশাকি নাম ‘হুগলি জেলা বসন্ত মিলনোত্‌সব’। কোর্টের মাঠ, আরএমএস মাঠ ঘোরার পরে এখন তার ঠিকানা শ্রীরামপুর রাজবাড়ি প্রাঙ্গন। শুধু কি আবির খেলা? বাউল গান হয়। শিশুরা নাচ-গান করে। নানা গণসংগঠন আর স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও যোগ দেয়। অনুষ্ঠানের ফাঁকে-ফাঁকেই থ্যালাসেমিয়া নিয়ে প্রচার চলে। বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয় আক্রান্তদের।

গানের মিছিল

মিছিল বটে, তবে ভোটের নয়। তবু লোক হবে হাজার, দু’হাজারও হতে পারে। বাজবে পুরুলিয়ার লাউদহ থেকে আসা ধামসা-মাদল। আগামী শনিবার বিকেল চারটেয় হলদিয়ার হাজরা মোড় থেকে দুর্গাচক হয়ে ফের হাজরা মোড়, প্রায় চার কিলোমিটার পরিক্রমা করবে এই মিছিল। বসন্তের নানা গানের সঙ্গে চলবে আট থেকে আশির নাচ-গান, আর আবির খেলা। হাজরা মোড়ে রাস্তার পাশে বাড়ি-লাগোয়া জমিতে তৈরি মঞ্চে চলবে অনুষ্ঠান। গত চার মাস ধরে মহড়া চলছে। অবশ্য ১৭ বছর ধরে প্রস্তুতি চলছে বললেও ভুল হবে না। হলদিয়ার ‘নটরাজ ডান্স অ্যান্ড কালচার অ্যাকাডেমি’ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক এবং সাধারণ নাগরিক এই মিছিল-অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ ছাড়া মহিষাদল রাজবাড়ির আমবাগানের প্রাণখোলা পরিবেশেও দোলের জমাটি অনুষ্ঠান হয়।

মায়াবী ডাব

দোলের মরসুমে নবদ্বীপ-মায়াপুর চলে যায় ডাবের দখলে। কচি ডাব থেকে শাঁসওয়ালা, মালাই থেকে ফুল, ডাবের পসরা মোড়ে মোড়ে। ডাব-ই যে বিদেশি ভক্তদের পয়লা পছন্দ। মিনারেল ওয়াটারের বোতল ফেলে শাঁসওয়ালা ডাব খোঁজেন ওঁরা। চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়ে। এমনই যে, নবদ্বীপ-মায়াপুরের বহু লোক শুধু এই ক’মাসের জন্য অন্য পেশা ছেড়ে ডাবের ব্যবসায় নেমে পড়েন। যেমন প্রফুল্লনগরের কমল দেবনাথ। অন্ধ্রে মণ্ডপশিল্পীর কাজ ছেড়ে এই সময় চলে আসেন নিজের শহরে। সমাজবাড়ির সামনে তাঁর ডাবের ট্রলি রাখছেন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে।

নবদ্বীপের প্রতিটি বড় মন্দিরের সামনে, খেয়াঘাট, বাসস্ট্যান্ড বা রেল স্টেশন লাগোয়া রাস্তায় ট্রলিতে ডাব নিয়ে প্রায় ৫০ জন বিক্রেতা ঘুরছেন। গঙ্গার ওপারে মায়াপুরে খেয়াঘাট থেকে ইস্কন মন্দির পর্যন্ত পৌনে এক কিলোমিটার রাস্তায় অগুণতি ডাবওয়ালা। মন্দির চত্বরেও ছাতা দিয়ে চেয়ার সাজিয়ে ডাব স্টল। পথচলতি দাম ১০-২০ টাকা। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ৪০ টাকাতেও বিকিয়ে যায়।


ধীরেন্দ্রনাথ

সাঁওতাল সমাজের আখ্যান তাঁর কাছ থেকেই জেনেছে বহুজন। বাংলা ভাষায় নৃতত্ত্ব ও প্রান্তিক জনজাতির ইতিহাস চর্চায় ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কের ‘পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী সমাজ’ এবং ‘সাঁওতাল গণসংগ্রামের ইতিহাস’ সমাদৃত হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন। ১৯৩০ সালে লালগড়ে জন্ম। ভীমপুর হাইস্কুলে পড়া শেষ করে হুগলির শ্রীরামপুর কলেজ থেকে স্নাতক হন। স্কুলে শিক্ষকতা করেন কিছু দিন। ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকার সাঁওতালি সংস্করণ ‘পছিমবাংলা’র সম্পাদনা করেন বিশ বছর। বীরভূমের সাঁওতালি পত্রিকা ‘দিশ-হুদিশ’ও সম্পাদনা করেছেন। ২০০৭-এ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০০৯ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় সাম্মানিক ডি লিট দেয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চুরাশি বছর বয়সে প্রয়াত হলেন ধীরেন্দ্রনাথ।

লোকজীবন

অরণ্যে হোরি খেলছে সার সার পলাশ। সেই বসন্ত গায়ে মেখেই দোল খেলা। পুরুলিয়ার চেলিয়ামায় বান্দার দেউলে সেই খেলা শুরু সাতাশ বছর আগে। ছৌয়ের সঙ্গে মিশেছে বীরভূমের বাউল। মূল উদ্যোক্তা চেলিয়ামা গ্রামের সুভাষ রায়। পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক হলেও লোকসংস্কৃতি গবেষক হিসেবেই যাঁর বেশি পরিচিতি। সুভাষবাবুদের গড়া মানভূম লোকসংস্কৃতি কেন্দ্রের তখন নিজস্ব জমি-বাড়ি ছিল না। এখন সারা বছরই ছৌ প্রশিক্ষণ, সংস্কৃতি ও পুরাতত্ত্বের আলোচনা লেগে থাকে কেন্দ্রে। কলকাতা, কল্যাণী বা মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা পুরাতাত্ত্বিক গবেষণার কাজে আসেন। আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ নীরবে করে চলেছেন তিনি। অণৃজু নামে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পুরাতত্ত্ব বিষয়ক পত্রিকা বের করে চলেছেন। “কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, বাঁকুড়া নিয়ে বই থাকলেও পুরুলিয়ার পুরাতত্ত্ব নিয়ে তেমন কাজ নেই। তাই নিজেই লিখতে শুরু করি।” তাঁর বই পুরুলিয়ার মন্দির ও স্থাপত্য প্রকাশ হয়েছে বছর দুই আগেই। বেঁধেছেন বেশ কিছু ঝুমুর গানও। তার কিছু ইতিমধ্যে রেকর্ডও হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy