Advertisement
E-Paper

বিষ্ণুপুর মেলায় এ বার থিম পর্যটন

কাল, বুধবার থেকে শুরু হতে চলেছে বিষ্ণুপুর মেলা। বিষ্ণুপুর মেলা কমিটির সদস্য সচিব তথা বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক পার্থ আচার্য জানিয়েছেন, এ বারের মেলাও ৫ দিন ধরে চলবে। শেষ হবে ২৭ নভেম্বর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:১৫
মেলার শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। সোমবার ছবিটি তুলেছেন শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল।

মেলার শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। সোমবার ছবিটি তুলেছেন শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল।

কাল, বুধবার থেকে শুরু হতে চলেছে বিষ্ণুপুর মেলা। বিষ্ণুপুর মেলা কমিটির সদস্য সচিব তথা বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক পার্থ আচার্য জানিয়েছেন, এ বারের মেলাও ৫ দিন ধরে চলবে। শেষ হবে ২৭ নভেম্বর।

ভারত সরকারের জাতীয় মেলার তালিকায় ২৮ নম্বরে রয়েছে বিষ্ণুপুর মেলার নাম। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করে বিষ্ণুপুর মেলা ও উৎসব কমিটি। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মেলার পৃষ্ঠপোষকতা করে ভারত সরকারের পর্যটন, সংস্কৃতি, বস্ত্র মন্ত্রক এবং পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র। মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন, তথ্য-সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র-ছোট উদ্যোগ ও বস্ত্র, অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ণ, নারী ও শিশু কল্যাণ এবং জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি বিভাগ। এ ছাড়াও সহায়তা করে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ, বাঁকুড়া জেলা পরিষদ, বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতি এবং বিষ্ণুপুর পুরসভা।

কমিটির সভাপতি তথা বিষ্ণুপুরের পুরপ্রধান এবং রাজ্যের বস্ত্রমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, জেলার পর্যটন শিল্পের প্রসার, শিল্পের বিপণন এবং লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা মেলার প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি জানান, মেলার এ বারের থিম ‘মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুরের পর্যটন’। বাজেট ধরা হয়েছে ৩৮ লক্ষ টাকা। থাকছে ২০৭টি স্টল। ৩টি মঞ্চে পরিবেশিত হবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শ্যামাপ্রসাদবাবু জানান, বিষ্ণুপুর ঘরানার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী এবং জেলার লোকশিল্পীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন উদিত নারায়ণ, জুবিন গর্গ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তারকা অভিনেতা ও গায়কেরা। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে মন্ত্রী চারটি ট্যাবলোর সূচনা করেন। এই ট্যাবলোগুলি শহরে ঘুরে ঘুরে মেলার প্রচার চালাবে।

উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, বিষ্ণুপুরের প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী যদুভট্ট, গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের এবং মহারাজা বীরহাম্বিরের নামে ৪টি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে মেলায়। স্টল দিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ভারতীয় যাদুঘর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দর্শকরা সমস্যায় পড়লে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বিভিন্ন হেল্প লাইনে।

এ দিন মেলা চত্বরে গিয়ে দেখা গেল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিকে ঘিরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা। জোর কদমে চলছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। সাজানো হচ্ছে স্টল। শীত পড়তেই বিষ্ণুপুরে শুরু হয়ে গিয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। তাদের কেউ কেউ উঁকি মারছেন মেলার মাঠে। বিষ্ণুপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অসিত চন্দ্র জানান, শহরের বেশিরভাগ হোটেল ইতিমধ্যেই ভরে গিয়েছে। ভিড় জমতে শুরু করেছে শহরের বালুচরির তাঁতশাল, দশাবতার তাস, শঙ্খ এবং টেরাকোটার দোকানগুলিতেও। তাঁতশিল্পী অমিতাভ পাল জানালেন, প্রতি বছর মেলার আগে থেকেই ক্রেতারা ভিড় করেন। সব মিলিয়ে মেলার আগেই জমজমাট বিষ্ণুপুর।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy