Advertisement
E-Paper

বক্সের আওয়াজ বাড়িয়ে রাতে নাচ, আটক পুলিশ

তোলা আদায়ের অভিযোগে নয়, নাচতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হলেন এক পুলিশকর্মী। বীরভূমের দুবরাজপুর থানার লোহাগ্রাম এলাকায় একটি সরস্বতী পুজোমণ্ডপে সোমবার রাতে অল্প আওয়াজে সাউন্ড-বক্স বাজছিল। ভেসে আসছিল হাল আমলের বাংলা সিনেমার গান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৩৮

তোলা আদায়ের অভিযোগে নয়, নাচতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হলেন এক পুলিশকর্মী।

বীরভূমের দুবরাজপুর থানার লোহাগ্রাম এলাকায় একটি সরস্বতী পুজোমণ্ডপে সোমবার রাতে অল্প আওয়াজে সাউন্ড-বক্স বাজছিল। ভেসে আসছিল হাল আমলের বাংলা সিনেমার গান। কিন্তু নাচতে হলে কি কম আওয়াজে আসর জমে? কলকাতা পুলিশের কর্মী দাদাকে সঙ্গে নিয়ে সটান মণ্ডপে ঢুকে আওয়াজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন রাজ্য পুলিশের এক কনস্টেবল।

পাড়াতেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থ়ী রয়েছে। তাই গাঁক গাঁক করে সাউন্ড-বক্স বেজে ওঠায় শুরুতে হকচকিয়ে যান উদ্যোক্তারা। কিন্তু উদ্দাম নৃত্যের তালে-তালে আওয়াজ ক্রমশ কানের পর্দা ফাটানোর স্তরে পৌঁছে যাওয়ায় তাঁরা প্রতিবাদ করেন। কাজ না হওয়ায় এক সময় বন্ধ করে দেন বক্স।

Advertisement

অভিযোগ, এর পরেই শুরু ধুন্ধুমার। উদ্যোক্তাদের দাবি, কেন তাঁদের গানের তালে নাচতে দেওয়া হল না, তা নিয়ে ঝগড়া শুরু করেন ‘মত্ত’ অবস্থায় থাকা দুই পুলিশকর্মী। উপস্থিত জনতা দু’দলে ভাগ হয়ে যায়। পুলিশকর্মীদের বাবা, বন্ধুরা জড়ো হয়ে যান। পুজোর উদ্যোক্তাদের তরফেও লোকবল নেহাত কম ছিল না। দু’পক্ষে বাধে হাতাহাতি। অভিযোগ, সে সময় সাউন্ড-বক্স ভেঙে দেন রাজ্য পুলিশের ওই কনস্টেবল প্রকাশ সৌ। প্রকাশ ও তার দাদা পলাশের নেতৃত্বে সরস্বতী প্রতিমাও ভাঙা হয় বলে অভিযোগ।

মঙ্গলবার সকালে প্রকাশ, পলাশ ও তাঁদের বাবা অমূল্যরতন সৌ-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দুবরাজপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পুজোর উদ্যোক্তারা। লোহাগ্রামে গিয়ে বর্ধমানের কাটোয়া থানার কনস্টেবল প্রকাশকে আটক করে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পরে মামলা রুজু করা হবে।’’

তবে এলাকাবাসীর একটা বড় অংশের অনুমান, ওই পুলিশ কর্মীকে থানায় তুলে আনা হলেও ব্যাপারটা মীমাংসা করার চেষ্টা হতে পারে। জেলা পুলিশের কর্তারা অবশ্য সে অভিযোগ মানতে চাননি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, লোহাগ্রামের ওই এলাকায় ১৯৯৫ সাল থেকে সরস্বতী পুজো করে আসছেন পাড়ার একটি ক্লাব। ক্লাবের সম্পাদক উদয় সৌয়ের অভিযোগ, ‘‘পাড়ায় এক জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রয়েছে। তার অসুবিধা হতে পারে ভেবে আস্তে গান বাজানো হচ্ছিল। রাতের বেলায় মদ্যপ অবস্থায় এসে ওই দুই পুলিশ-ভাই গোলমাল পাকায়। প্রতিমাও ভেঙে দেয়।’’

সাউন্ড-বক্সের আওয়াজ বাড়িয়ে দেওয়া বা প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ মানতে চাননি ওই দুই পুলিশ কর্মী। ‘‘তেমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি’’— দাবি পলাশের। প্রকাশের দাবি, তিনিও কিছু করেননি।

নেচেছেন কি? প্রকাশের জবাব, ‘‘ফরেন্সিক পরীক্ষা হোক।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy