নবমীতে খুন। একেবারে দিনের আলোয়।
বাবা ও ছেলে মোটরবাইকে করে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, মাঝপথে বাইক থামিয়ে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁদের। মৃতেরা হলেন নিমাই সর্দার (৬২) ও তাঁর ছেলে বিশ্বনাথ (৩২)। ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানা এলাকার। পুজোর রোশনাইয়ে অনেকটাই ধামাচাপা পড়ে যায়
সেই ঘটনা।
তার পর থেকে দুই সন্তান নিয়ে বাড়িছাড়া বিশ্বনাথের স্ত্রী মিনতি। দুই ছেলের এক জনের বয়স ৮ বছর, অন্য জনের মাত্র ৭ মাস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছেন ২৬ বছরের ওই তরুণী। আপাতত তিনি আছেন সোনারপুরে বাপের বাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মিনতির অভিযোগ, প্রকৃত দোষীরা তাঁদের খুনের হুমকি তো দিয়েছেই। এমনকী, তাঁরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ২ মিনিট সময়ও প্রার্থনা করেছেন মিনতি।
ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জয়নগর থানা ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু মিনতির অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্তেরা এখনও এলাকায় আছে। মূলত তাঁদের ভয়েই তিনি বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
মিনতির আইনজীবী সোনালি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিবাদ মূলত দুই ভাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে। মিনতির শ্বশুর, নিমাইয়ের বড় ভাই নিতাই সর্দার মারা যান ২০১৪ সালে। তার পর থেকে নিতাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে বৌদি সুলতা সর্দারের সঙ্গে গোলমাল বাধে নিমাইয়ের। এরই মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে সুলতার ছেলে কর্ণর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সুলতার তরফে থানায় অভিযোগ জানানো হয় নিমাইয়ের নামে। অভিযোগ ছিল, সম্পত্তি দখলের জন্য পথের কাঁটা সরাতে কর্ণকে খুন করা হয়েছে। সেই মামলা এখনও চলছে।
মিনতির আইনজীবী সোনালিদেবীর অভিযোগ, কর্ণ মারা যাওয়ার পরেই স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর সাহায্যে নিমাইয়ের বাড়ি ভাঙচুর করান সুলতা। এলাকায় সুলতার বেশ প্রতিপত্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ। ওই ঘটনার পর থেকেই বাড়িছাড়া ছিলেন নিমাই, বিশ্বনাথ ও মিনতি।
মিনতির বাবা বাসুদেব সর্দারের বয়ান অনুযায়ী, নবমীর দিন জয়নগর থানার বেলে দুর্গানগর গ্রামে নিজেদের ভেঙে যাওয়া বাড়ি দেখতে গিয়েছিলেন নিমাই ও বিশ্বনাথ। মাঝপথে বাইকে ওঠেন নিমাইদের আর এক ভাই সন্তোষ সর্দার। বাড়ি দেখভালের পরে তিন জন যখন ফিরছিলেন, তখনই তাঁদের পথ আটকানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে কোনওক্রমে পালিয়ে বাঁচেন সন্তোষ। অভিযোগ, বিশ্বনাথ ও নিমাইকে গুলি করে, কুপিয়ে খুন করা হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পুলিশের কর্তাদের কথায়, পারিবারিক বিবাদের জেরেই ওই খুন। যদিও মৃতদের পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে অভিযোগে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনার তদন্তে নেমে স্বপন মণ্ডল ও শঙ্কর মণ্ডল নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অবশ্য দাবি, ওই দিন গুলি ছোড়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয়েছিল নিমাই, বিশ্বনাথ ও সন্তোষের উপরে। দুষ্কৃতীদের মারের চোটে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নিমাই ও বিশ্বনাথের।
তদন্তকারীদের দাবি, নবমীর দিনের ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। বীরমূর্তি নস্কর নামে এক জনের নেতৃত্বে নিমাই ও বিশ্বনাথকে মারা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে বীরমূর্তি পলাতক। তাঁর খোঁজ চলছে। পাশাপাশি, ওই ঘটনায় আরও ৭-৮ জন জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান পুলিশের। তাঁদেরও খোঁজ শুরু হয়েছে।