Advertisement
E-Paper

মুখ্যমন্ত্রীর নজর থাক স্বাস্থ্যেও, চাইছে দিঘা

পর্যটন বিকাশে সৈকত শহর দিঘাকে যখন গোয়া বানাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে, তখন প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে ধুঁকছে হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবা। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে দিঘার একমাত্র স্টেট জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার।

সুব্রত গুহ

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:৪১
বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। ছবি: সোহম গুহ।

বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। ছবি: সোহম গুহ।

এ যেন প্রদীপের নিচেই অন্ধকার।

পর্যটন বিকাশে সৈকত শহর দিঘাকে যখন গোয়া বানাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে, তখন প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে ধুঁকছে হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবা। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে দিঘার একমাত্র স্টেট জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। শুধু তাই কেন, হাসপাতালে না রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, না রয়েছে শল্য চিকিৎসক বা স্থায়ী ওয়ার্ড মাস্টার। ফলে দিঘার স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে কোনও পর্যটকও যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে এই হাসপাতাল থেকে ন্যূনতম পরিষেবা মিলবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

১৯৭৯ সালে ৫০ শয্যার দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন করেন রাজ্যের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ননী ভট্টাচার্য। শুধু দিঘা নয়, রামনগর ও প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার সীমানাবর্তী এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবাটুকুও মেলে না বলে সাধারন মানুষের অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর ‘পরিবর্তন’ কিন্তু থমকেই রয়েছে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। যেখানে রাজ্য জুড়ে মিশন নির্মল বাংলা নিয়ে এত মাতামাতি চলছে সেখানে এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে কোন শৌচালয়ের ব্যবস্থাটুকুও নেই। হাসপাতালে থাকার কথা কম করে দশজন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু সুপার-সহ মাত্র আটজন চিকিৎসক রয়েছেন। এমনকী শিশু ও প্রসূতি বিভাগ ছাড়া কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। স্থায়ী ওয়ার্ড মাস্টার, স্টোরকিপার নেই। হাতে গোনা জনা দশেক চতুর্থ শ্রেণির কর্মী আর মাত্র একজন স্থায়ী সাফাইকর্মী নিয়ে নাজেহাল এই হাসপাতাল।

দিঘার বাসিন্দা রাজকুমার পাত্র, ইমনকল্যাণ জানাদের অভিযোগ, ‘‘কতবার হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেছি। চিকিৎসক না থাকায় বহুবার অন্য জায়গায় দেখাতে বাধ্য হয়েছি।’’ হাসপাতালের করুণ দশার কথা স্বীকার করেছেন নিউ দিঘা প্লট হোল্ডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অলোক মিশ্রও। তাঁর কথায়, ‘‘এলাকার মানুষরা তো বেহাল এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দাম মেটাচ্ছেই। ভাবুন তো যদি পর্যটকরা বেড়াতে এসে কোনও সমস্যায় পড়ে, তাহলে কী হবে?’’ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পর্যটকদের বক্তব্য, “আমাদের সামনেই একজন জলে ডুবে গিয়েছিল। তাকে হাসপাতালে আনার পরও বলা হল, চিকিৎসক নেই। তাই তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।’’ সমস্যার কথা এক বাক্যে স্বীকার করেছেন হাসপাতাল সুপার বিষ্ণুপদ বাগও। তাঁর কথায়, ‘‘যে অভিযোগুলো উঠেছে সেগুলো সব ঠিক। কিন্তু আমাদেরও তো হাত-পা বাঁধা। সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’’

দিঘাকে ‘গোয়া’ বানানোর পরিকল্পনার কথা আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুযায়ী সৌন্দর্যায়নের কাজও চলেছে। কিন্তু শুধু সেই দিকে নজর না দিয়ে দিঘার চাহিদাকেও গুরুত্ব দিন মুখ্যমন্ত্রী, দিঘাবাসীর দাবি এটুকুই।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy