Advertisement
E-Paper

মেয়ে ফিরবে, কোর্টের ক্ষোভই ভরসা মায়ের

৫ মে থেকে ৫ অগস্ট। তিন মাস ধরে মেয়ে নিখোঁজ। তার ফেরার আশায় প্রহর গুনে চলেছেন মা। ৫ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ফোন করেছিলেন মেয়ের মামা প্রশান্ত দলুই। বলেছিলেন, মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হুড়োহুড়ি করে সে-রাতেই কলকাতা থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জার ধরে বাবা-মা চলে গিয়েছিলেন বহরমপুর। সেখান থেকে কান্দি থানার মহানন্দী গ্রামে প্রশান্তের বাড়ি।

দীক্ষা ভুঁইয়া

শেষ আপডেট: ০৬ অগস্ট ২০১৪ ০৩:২১

৫ মে থেকে ৫ অগস্ট। তিন মাস ধরে মেয়ে নিখোঁজ। তার ফেরার আশায় প্রহর গুনে চলেছেন মা।

৫ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ফোন করেছিলেন মেয়ের মামা প্রশান্ত দলুই। বলেছিলেন, মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হুড়োহুড়ি করে সে-রাতেই কলকাতা থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জার ধরে বাবা-মা চলে গিয়েছিলেন বহরমপুর। সেখান থেকে কান্দি থানার মহানন্দী গ্রামে প্রশান্তের বাড়ি। তার পর থেকে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বারবার। পাঁচ-পাঁচ বার গিয়েছেন শুধু মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীরের কাছেই। কিন্তু সব জায়গাতেই ‘দেখছি’ ছাড়া নির্ভর করার মতো কোনও আশ্বাস পাননি।

তিন মাসেও মেয়েটির হদিস মেলেনি। নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়ার তোপের মুখে পড়ে রাজ্য পুলিশ। অবিলম্বে ওই কিশোরীকে খুঁজে দিতে না-পারলে উঁচু থেকে নিচু তলার সব পুলিশকর্মীকে জেলে পোরা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি।

উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশা দেখছেন মা-বাবা। বলছেন, “হাইকোর্টের বিচারপতির নির্দেশের পরে মনে হচ্ছে, মেয়েটাকে ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে।” মঙ্গলবার পাতিপুকুরে বিধানপল্লির বাড়িতে বসে কিশোরীর বাবা-মা জানান, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দফায় দফায় বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি এসেছে। এমনকী কলকাতা পুলিশে লেদার কমপ্লেক্স থানার এক অফিসারও বিষয়টি ‘মিটিয়ে নেওয়া’র জন্য জোরাজুরি করেন। ভয়ে অন্য এক মেয়েকে ভিন্ রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তবে হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা দ্বারস্থ হন হাইকোর্টের। এ দিন মা বললেন, “ও তো মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। ওখানে কাউকেই চিনত না। খালি পায়ে মেয়েটা মামার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে টাকাপয়সাও ছিল না। মোবাইলও না। ও কোথায় পালাবে, বলুন তো!”

নিখোঁজ কিশোরীর মাসি কাঞ্চন দলুইয়ের বাড়ি বহরমপুরে। ২৫ এপ্রিল সেখানেই গিয়েছিল মেয়েটি। ৫ মে সে যায় মামা প্রশান্ত দলুইয়ের বাড়ি। সে-দিনই বিকেলে নিখোঁজ হয়ে যায় মেয়েটি। বাবা-মায়ের সন্দেহ, কাঞ্চনের দুই দেওর অসীম দলুই ও অজয় দলুই এর সঙ্গে যুক্ত। তাদের নামে অভিযোগও দায়ের করেছেন তাঁরা। কিশোরীকে কোথাও পাচার করে হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে একাধিক বার ফোনে কিশোরীর বাবা-মাকে হুমকি দিয়েছে অজয়-অসীম। পুলিশ অসীমকে গ্রেফতার করলেও অজয় পলাতক।

হাইকোর্টের সোমবারের নির্দেশের পরে এখনও পুলিশের ফোন আসেনি। তবু নিখোঁজ কিশোরীর মা-বাবার আশা, এ বার নিশ্চয়ই পুলিশ সক্রিয় হবে। খোঁজ মিলবে মেয়ের।

উচ্চ আদালতের কড়া মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর মঙ্গলবার বলেন, “আদালতের নির্দেশ মেনে যা যা করণীয়, আমরা তা শুরু করে দিয়েছি। সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৩ অগস্টের মধ্যে আদালতে নির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারব বলে আশা করছি।”

অন্যতম মূল অভিযুক্ত অজয় দলুইকে এখনও ধরা গেল না কেন?

পুলিশ সুপার বলেন, “মনে হয়, মেয়েটি ওই ব্যক্তির সঙ্গেই রয়েছে। ওই অভিযুক্তকে খুঁজে বার করতে পারলে মেয়েটিকেও পাওয়া যাবে। আমরা সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছি।”

prashanta doloi nadia patheria high court diksha bhuian
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy