Advertisement
E-Paper

রিজের মতো আনিশা আর সোমেনের বিয়েতেও পুলিশি খাঁড়া

কলকাতার রিজওয়ানুর রহমানের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে পানাগড়ের সোমেন সেনাপতি আর আনিশা নাসরিন মণ্ডলের কাহিনি! এখানেও পাত্র-পাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক, তবে ভিন্ন ধর্মের। পরস্পরকে ভালবেসে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন তাঁরা।

অরুণোদয় ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৪ ০৩:০৯

কলকাতার রিজওয়ানুর রহমানের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে পানাগড়ের সোমেন সেনাপতি আর আনিশা নাসরিন মণ্ডলের কাহিনি!

এখানেও পাত্র-পাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক, তবে ভিন্ন ধর্মের। পরস্পরকে ভালবেসে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন তাঁরা। কিন্তু বর্ধমানের কাঁকসা থানার পুলিশ আনিশার বাবার হয়ে সোমেনের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের ভূমিকায় ভয় পেয়ে সোমেনের মা লাবণ্যদেবী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় বিরক্ত বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত কাঁকসা থানার ওসি-কে ভর্ৎসনা করেন এবং ওই তরুণ দম্পতি যাতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বছর সাতেক আগে রিজওয়ানুরের ঘটনাতেও প্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির সম্পর্কে নাক গলানোর অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। রিজের মৃতদেহ পাওয়া যায় রেললাইনের ধারে। তা নিয়ে তোলপাড় চলে সারা রাজ্যে। খাস মহানগরের সেই ঘটনাকে ফের সামনে আনল সোমেন-আনিশা কাণ্ড।

পানাগড়ের সারদা পল্লির বাসিন্দা লাবণ্যদেবী সেনাপতি হাইকোর্টে আবেদন পেশ করে জানান, ২৮ ডিসেম্বর তাঁর ছেলে সোমেন বাড়ি থেকে চলে যান। তাঁর আর খোঁজ মেলেনি। গত ২২ জানুয়ারি রাত ২টো নাগাদ পুলিশ এবং অন্য দু’টি লোক লাবণ্যদেবীর বাড়িতে আসেন। কিন্তু তাঁরা সে-রাতে সারদা পল্লির বাড়িতে ছিলেন না। একটি বিয়ের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে বাঁকুড়া গিয়েছিলেন। পুলিশ পড়শিদের জানায়, আসরাফ আলি মণ্ডলের মেয়ে আনিশাকে বিয়ে করেছেন সোমেন। মেয়েটিকে তাঁর বাড়িতে ফিরিয়ে না-দিলে ওই যুবকের পরিবার বিপদে পড়বে। পুলিশ সোমেনদের খুঁজে বার করবেই।

লাবণ্যদেবী আবেদনে জানান, পরের দিন বাড়ি ফিরে আগের রাতে পুলিশ আসার কথা জানতে পারেন তাঁরা। তখনই শোনেন, তাঁর ছেলে সোমেন একটি মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেছে। লাবণ্যদেবীর আইনজীবী চিত্তপ্রিয় ঘোষ বলেন, ওই যুবক-যুবতীর মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু আনিশার বাবা আসরাফের আপত্তি ছিল। তিনি বেশ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। তাই সোমেন আর আনিশা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছেন।

চিত্তপ্রিয়বাবু আদালতে জানান, বিয়ের পর থেকেই পুলিশ এবং মেয়ের বাবা ও তাঁদের আত্মীয়স্বজন সোমেনের পরিবারের লোকেদের নানা ভাবে হেনস্থা করছিল। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে লাবণ্যদেবী কোনও সুরাহা পাননি। উল্টে আসরাফ আলি মণ্ডলের কথামতো বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল পুলিশও।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নির্দেশে মঙ্গলবার আনিশা হাইকোর্টে হাজির হন। তাঁর হয়ে চিত্তপ্রিয়বাবু আদালতকে গোটা বিষয়টি জানান। তাঁরা যাতে নির্ভয়ে বসবাস করতে পারেন, ওই আইনজীবী মারফত বিচারপতির কাছে তার আর্জি জানান আনিশা। বিচারপতি বর্ধমানের কাঁকসা থানার ওসি এবং অন্য অফিসারদের ভর্ৎসনা করেন। তিনি বলেন, এই দম্পতি সুখে-শান্তিতে বাস করবেন, পুলিশের তো এটাই দেখা উচিত, চাওয়া উচিত। তা না-করে পুলিশ একটি পরিবারের অন্দরের ঘটনা নিয়ে নোংরামি করেছে। আদালত পুলিশের এই ভূমিকা বরদাস্ত করবে না। নবদম্পতি যাতে শান্তিতে থাকতে পারেন, পুলিশকেই তা নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপতির নির্দেশ, মেয়েটির বাবাকে বেআইনি কাজ করা থেকে বিরত করতে হবে পুলিশকেই।

arunoday bhattacharya anisha nasrin mondal somen senapati
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy