Advertisement
E-Paper

আড়াই লক্ষ মৃত্যু লাতিন আমেরিকায়

মৃত্যু-তালিকার শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এ দেশে ৩৩ কোটি মানুষের বাস।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০২০ ০৫:৫৯
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

আরও এক লাখ মৃত্যু পার। গোটা বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা আট লাখের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল। সংক্রমণ বা মৃত্যু-মিছিল থামার কোনও লক্ষণ নেই। এ অবস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস জানালেন, তাঁর আশা, দু’বছরের মধ্যেই বিদায় নেবে করোনা। তবে এর কোনও নির্দিষ্ট কারণ দেখাননি হু-প্রধান। জানিয়েছেন, ১৯১৮ সালে যখন স্প্যানিশ ফ্লু এসেছিল, সেটি দু’বছর থেকেছিল। এ বারেও তেমনই হবে বলে ধারণা তাঁর।

মৃত্যু-তালিকার শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এ দেশে ৩৩ কোটি মানুষের বাস। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৭৭ হাজারেরও বেশি মারা গিয়েছেন কোভিড আক্রান্ত হয়ে। ও দিকে, ক্রমশই খারাপ হচ্ছে লাতিন আমেরিকার পরিস্থিতি। করোনায় মৃত্যু আড়াই লক্ষ ছাড়িয়েছে এই মহাদেশে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। গোটা বিশ্বের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে তারা, আমেরিকার ঠিক পরেই। জাইর বোলসোনারোর দেশে মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১২০৪ জনের। সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে এই দুঃসংবাদ জানিয়েছে। তবে রেকর্ড আগেই গড়েছে ব্রাজিল। গত সপ্তাহে এক দিনে ৩ হাজার জনেরও বেশি মারা গিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পেরু, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনাতেও সংক্রমণ মারাত্মক ভাবে বাড়ছে। মৃত্যু-সংখ্যার নিরিখে তৃতীয় স্থানে মেক্সিকো। ৫৯ হাজারেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

ইউরোপের পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভাল। কিন্তু বিপদ এখনও কাটেনি জানিয়ে আজ সতর্ক করল হু। সংস্থার কর্তা হান্স ক্লুগ জানান, অতিমারির উপকেন্দ্র এখন দুই আমেরিকার দিকে সরে গিয়েছে। কিন্তু তাতেও দৈনিক অন্তত ২৬ হাজার সংক্রমণের খবর মিলছে ইউরোপ থেকে। কোভিড-১৯ হওয়ার পরে সুস্থ হয়ে ওঠা ভারতীয়, দক্ষিণ এশীয়দের কাছে প্লাজ়মা দান করার আবেদন জানাল ব্রিটেন সরকার। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ বছরের শেষে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে ব্রিটেনে। তার আগে পরিস্থিতি সামলানোর মতো ব্যবস্থা করে রাখছে সে দেশের সরকার। ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞদের দাবি, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দক্ষিণ এশীয়দের শরীরে বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। তাই করোনা যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে প্রভূত অ্যান্টিবডি-মিশ্রিত প্লাজ়মা মজুত করে রাখছেন তাঁরা।

সপ্তাহ খানেক আগেই লকডাউন তুলে দেওয়ার দাবিতে বার্লিনের রাস্তায় নেমেছিল বিক্ষোভের ঢল। শামিল হন হাজার হাজার জার্মান। আজ জানা গেল, স্কুল খুলে দিতেই দু’সপ্তাহের মাথায় বার্লিনের অন্তত ৪১টি স্কুলে করোনা ধরা পড়েছে। স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার পক্ষপাতী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। দেশের স্বাস্থ্য বিশারদেরা বারবার আপত্তি জানালেও তিনি অনড়। এ বার হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের ‘এসেনশিয়াল ওয়ার্কারস’ বা জরুরি পরিষেবা-কর্মী বলে ঘোষণা করা হল। ক্ষুব্ধ শিক্ষক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, তারা স্ট্রাইক শুরু করবে।

সংক্রমিতের সংখ্যা অনুযায়ী চতুর্থ স্থানে রাশিয়া। ৯,৪৬,৯৭৬ জন আক্রান্ত। অথচ মৃতের সংখ্যা অনুযায়ী তারা প্রথম দশেও নেই। এই পরিস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি ঘোষণা করেন, তাঁদের প্রতিষেধক তৈরি হয়ে গিয়েছে। যদিও জানা যায়, ভ্যাকসিনটির তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি। আজ রুশ প্রশাসন জানাল, সেই তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে আগামী সপ্তাহে। তাতে অংশ নেবেন ৪০ হাজার মানুষ। ‘ইমিউনোজেনেসিটি’ (বাইরে থেকে কোনও কিছু শরীরে ঢুকিয়ে রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলা) ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হবে এই পরীক্ষায়। রাশিয়ার এই বিবৃতি সত্ত্বেও হু আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কোর সঙ্গে। লক্ষ্য একটাই— বিতর্কিত প্রতিষেধকটি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য উদ্ধার।

Coronavirus Death COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy