E-Paper

দুই বাংলাদেশি পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, আমেরিকায় গ্রেফতার প্রাক্তন ছাত্র

আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, দু’জনই সাউথ ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছিলেন। ভূগোল এবং পরিবেশবিদ্যা ছিল জামিলের বিষয়। অন্য দিকে, নাহিদা পড়শোনা করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩২

— প্রতীকী চিত্র।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পরে অবশেষে মিলল বাংলাদেশের ছাত্র বছর সাতাশের জামিল আহমেদ লিমনের মৃতদেহ। সাউথ ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি পড়ুয়া জামিল গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। গত কাল, শুক্রবার (আমেরিকার সময়ে) জামিলের দেহ ট্যাম্পা-বে এলাকার একটি সেতুর নীচে পাওয়া যায়। জামিলের পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরই সহপাঠী তথা বন্ধু নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিরও। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এমনই দাবি করেছেন নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। লিখেছেন, ‘আমার বোন আর নেই...’। ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিশাম আবুঘারবিয়েহ নামের বছর ছাব্বিশের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ট্যাম্পা শহরের লেক ফরেস্ট এলাকায় জামিল এবং হিশাম একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। জামিলকে হত্যা ছাড়াও হিশামের বিরুদ্ধে দেহ লোপাটের অভিযোগ এনেছে ফ্লরিডা পুলিশ।

আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, দু’জনই সাউথ ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছিলেন। ভূগোল এবং পরিবেশবিদ্যা ছিল জামিলের বিষয়। অন্য দিকে, নাহিদা পড়শোনা করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। যুগলের সম্পর্কের বিষয়ে জানত তাঁদের পরিবারও। বিয়ের পরিকল্পনাও করছিলেন জামিল এবং নাহিদা। তাঁরা যে নিখোঁজ, এই ব্যাপারটি গত ১৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান যুগলের এক বন্ধু। জানা যায়, জামিল এবং নাহিদাকে গত ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের দু’টি পৃথক জায়গায় শেষ বার দেখা গিয়েছিল।

তদন্তে নেমে জামিল এবং হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে ঘরের মেঝেয় রক্ত পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ বাড়ে পুলিশের। অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র কী ভাবে জামিলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়েরই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, ওঠে সেই প্রশ্নও। এরই মধ্যে গত কাল ট্যাম্পা শহরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর নীচ থেকে উদ্ধার হয় জামিলের পচা-গলা মৃতদেহ। তার পরেই হিশামকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারির সময়ে বাধা দেওয়ায় তাঁকে হেফাজতে নিতে নামে বিশেষ বাহিনী (সোয়াট দল)। হিশামের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় রয়েছে একাধিক অপরাধের অভিযোগ। হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নাহিদার বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও, দিদি আর বেঁচে নেই— আজ সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এ কথা জানিয়েছেন নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকার পুলিশ ফোন করেছিল। বোনের মৃতদেহ আদৌ পাওয়া যাবে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা তাঁরা দিতে পারেননি।’’

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানে এ দিন হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর পাশের জলাশয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। নাহিদার পাশাপাশি বাংলাদেশে জামিলের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে পুলিশ। ঘটনা প্রসঙ্গে হিলসবরো-র পুলিশ প্রধান চ্যাড ক্রনিস্টার বলেন, ‘‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা।’’ সাউথ ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমাইয়েম জানিয়েছেন, তদন্তে প্রশাসনকে সহায়তা করতে তাঁরা প্রস্তুত।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bangladeshi Students Death Case

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy