প্যারিসে সেনা আর পুলিশের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যেই নিহত তিন জঙ্গি। সেন্ট ডেনিস এলাকায় বিশাল বাহিনী পাঠিয়ে জঙ্গিদের পালাতে না পারা নিশ্চিত করেছে ফরাসি সরকার। ফরাসি সময় ভোর সাড়ে চারটে থেকে চলতে থাকা লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত এক পুলিস কর্মীরও মৃত্যু হয়েছে। তবে যে বাড়ির ভিতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছিল, সেখানে এখনও এক বা একাধিক জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে।
বুধবার ভোর থেকেই তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয় প্যারিসের উত্তর শহরতলির সেন্ট ডেনিসে। ফ্রান্সের ইতিহাসে ভয়াবহতম জঙ্গিহানার পর পাঁচ দিন কেটেছে মাত্র। এর মধ্যেই ফের গোলাগুলি আর পর পর বিস্ফোরণে গোটা শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এ দিন ভোর থেকে। অন্তত ৭টি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। অন্তত দু’জন পুলিশকর্মী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে এক জন মহিলা বলে জানা গিয়েছে। সে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছিল বলে খবর।
সেন্ট ডেনিস এলাকায় একটি বাড়িতে প্যারিস হামলার মূল চক্রী সালাহ আবদেসসালাম এবং আবদেল হামিদ লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর পেয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। তখনই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি শুরু হয় সেই বাড়িটির ভিতর থেকে। প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও ধাক্কা সামলে পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ। জঙ্গিরা এর পর বিস্ফোরণ ঘটাতে শুরু করে। তবে প্রস্তুতি নিয়েই এ দিন ময়দানে নেমেছে ফরাসি পুলিশ। ফলে আচমকা হামলা চালিয়েও পালানোর পথ পরিষ্কার করতে পারেনি জঙ্গিরা। যে বাড়িতে তারা লুকিয়ে রয়েছে, সেটি সব দিক দিয়েই পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। এখনও গুলি বিনিময় চলছে। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে সালাহ বা হামিদ রয়েছে কি না স্পষ্ট নয়। বাড়িটির ভিতরে এখনও যারা লুকিয়ে, তাদের পরিচয়ও জানা যানি। অভিযান শেষ হলেই এ নিয়ে বিবৃতি দেবে ফরাসি সরকার।