ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে মঙ্গলবার পথে নামলেন তাঁর দলের সদস্যেরা। মিছিলে তাঁরা দাবি তোলেন, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের কাজ করার পারমিট বাতিল করা হোক। ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন বলছে, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের আরও দাবি, হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ভারতে লুকিয়ে রয়েছেন। নয়াদিল্লি তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে না দিলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত ঢাকার। যদিও ভারত আগেই জানিয়ে দিয়েছে, হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত এ দেশে নেই। সীমান্ত পেরিয়ে তাঁর অনুপ্রবেশের কোনও খবর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নেই।
প্রসঙ্গত, প্রচারে বেরিয়ে প্রায়ই ভারতবিরোধী মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল হাদিকে। সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছিল সমাজমাধ্যমে (আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি)। এ বার হাদির অনুগামীরা ঢাকায় মিছিল করে ভারতীয়দের বাংলাদেশে কাজের পারমিট বাতিলের দাবি তুলল।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থেকে ‘ন্যায়ের জন্য মিছিল’ শুরু করেন হাদির দলের কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, হাদির হত্যার তদন্তে ‘অগ্রগতি নেই’। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারির দাবি তোলেন তাঁরা। ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের আগে হাদির হত্যায় জড়িত সকলের বিচার সম্পন্ন করার দাবিও রয়েছে তাঁদের। মিছিলের সময় অনুগামীরা স্লোগান দেন, ‘‘হাদির রক্ত ব্যর্থ হতে দেব না। আমাদের ভাই কবরে শুয়ে রয়েছে। তাঁর হত্যকারী কেন মুক্ত আকাশে ঘুরছে?’’
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে আসন্ন ভোটে লড়ার কথা ছিল হাদির। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাদি। তাঁকে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। ছ’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে। হাদির হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিমের পরিবারের সদস্যেরাও রয়েছেন। হাদির অনুগামীদের দাবি, অভিযুক্ত ফয়সাল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আত্মগোপন করে রয়েছেন। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সেই দাবি খারিজ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত মাসে দিল্লিতে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যে মিথ্যা গল্প তুলে ধরা হচ্ছে, আমরা তা প্রত্যাখান করছি। সেখানে আইন এবং শৃঙ্খলার যা পরিস্থিতি, যা ঘটছে, তা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। অন্য দিকে প্রবাহ ঘুরিয়ে যে গল্প ফাঁদা হচ্ছে, তা মিথ্যা। আমরা তা প্রত্যাখান করছি।’’ তিনি এ-ও জানান, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চায় ভারত। সে দেশে শান্তি, স্থিতাবস্থা ফিরে আসুক, সেটাই ভারত চায়।
২৮ ডিসেম্বর ঢাকা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) এসএন মহম্মদ নজরুল দাবি করেন, ফয়সাল এবং অন্য অভিযুক্ত আলমগীর শেখ হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করেছেন। স্থানীয়দের সাহায্যে এই কাজ করেছেন। মেঘালয়ের নিরাপত্তা সংস্থা এই দাবি নস্যাৎ করে জানায়, ঢাকা পুলিশের এই বক্তব্য ‘বিভ্রান্তিকর’। মেঘালয়ে বিএসএফ প্রধান ইনস্পেক্টর জেনারেল ওপি উপাধ্যায় জানান, হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে কারও অনুপ্রেবেশের কোনও খবর তাঁদের কাছে নেই। কোনও প্রমাণও নেই। মেঘালয় পুলিশও ঢাকা পুলিশের দাবি খারিজ করে।