হামলার ‘বদলা’ নিল আফগানিস্তান। তাদের সরকারি এক্স হ্যান্ডলে আফাগনিস্তান দাবি করেছে, পাকিস্তানে বিমানহামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলায় অন্ততপক্ষে ৫০ পাক সেনা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, এক্স হ্যান্ডলে আফগান সেনার তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ‘এই লড়াই থামবে না।’
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহের শনিবার আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। সেই হামলায় ১৯ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তার পরই পাক সেনার তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছিল, আফগানিস্তানে জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আফগানিস্তান পাল্টা দাবি করেন, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। তার পর পরই তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ‘‘এর বদলা আমরা নেব। শুধু সময়ের অপেক্ষা।’’ সেই হুঁশিয়ারির পরই এই হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পাকিস্তানের তরফে এই হামলা সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত থেকেই পাক-আফগান সীমান্তে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে। সীমান্ত সংলগ্ন আফগানিস্তানের পাঁচটি জায়গায় গোলাবর্ষণ করেছে পাক সেনা। সীমান্তের একাধিক জায়গায় আফগান সেনার বেশ কয়েকটি চৌকি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি। আফগান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল জ়কা খেল, ভারঘা, শাহকোট এবং লান্ডি কোটালে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তবে এই হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে আফগানিস্তানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে হুরিয়ত রেডিয়ো-র তরফে দাবি করা হয়েছে, পাক সেনাচৌকি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তানও।
গত শনিবারে গভীর রাতে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই আবার নতুন করে পাক-আফগান সীমান্ত উত্তপ্ত হয়েছে। আফগানিস্তানের পক্তিকার বরমল জেলায় এক মাদ্রাসায় বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এফ ১৬ এবং জেএফ ১৭ বিমান থেকে ওই অঞ্চলে হামলা চালানো হয় বলে দাবি। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ জানান, পাকিস্তান তাদের সীমা লঙ্ঘন করে আফগানিস্তানের নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘শনিবার রাতে নাঙ্গরহার এবং পক্তিকা প্রদেশে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এই হামলায় মহিলা এবং শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের সরকার এই ধরনের হামলা চালিয়ে নিজের দেশের অক্ষমতাকে ঢাকার চেষ্টা করছে।’’ তার পরই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, সময়মতো এই হামলার জবাব দেওয়া হবে। পাক হামলার নিন্দা করে আফগানিস্তানের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি।