যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে প্রভাবিত হয়েছে বিমান পরিষেবা। ইরান আগেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ ইজ়রায়েলের আকাশসীমাও। পরে রয়টার্স জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহারিন, ইরাক, কুয়েত এবং কাতারও নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো-সহ বিভিন্ন দেশের উড়ান সংস্থার পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগোর পাশাপাশি এয়ার ফ্রান্স, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ়, ইবেরিয়া এক্সপ্রেস, জাপান এয়ারলাইন্স, লুফথানসা, এলওটি এয়ারলাইন্স, নরউইজিয়ান এয়ারলাইন্স, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, ভার্জিন অ্যাটলান্টিক, এয়ার আলজিরি, স্ক্যানডেনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, উইজ় এয়ার, পেগাসাস এয়ারলাইন্স, আইটিএ এয়ারওয়েজ়ের মতো উড়ান সংস্থাগুলি পশ্চিম এশিয়ার উপর দিয়ে বিমান আপাতত বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বস্তুত, আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলিতে যাতায়াতের জন্য পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির আকাশসীমাকেই ব্যবহার করতে হয় ভারতকে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণের অন্যতম কেন্দ্র বলা চলে দুবাইকে। ভারত থেকে বিভিন্ন বিমান দুবাই হয়ে আমেরিকা এবং ইউরোপে যায়। আবার অস্ট্রেলিয়া বা সিঙ্গাপুরগামী অনেক বিমানও ভারত থেকে দুবাই হয়ে যাতায়াত করে। দুবাইয়ের আকাশ বন্ধ হওয়ার ফলে বিঘ্নিত হয়েছে বিভিন্ন উড়ান পরিষেবা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর কর্তারাও। টি-২০ বিশ্বকাপের শেষে ক্রিকেটার এবং আধিকারিকদের ফেরার জন্য বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করছে আইসিসি।
আরও পড়ুন:
রয়টার্স জানাচ্ছে, পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না-হওয়া পর্যন্ত দুবাই বিমানবন্দর থেকে সকল উড়ান পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উড়ান সংস্থার পাশাপাশি নজর রাখছে ভারতীয় উড়ান সংস্থাগুলিও। পশ্চিম এশিয়ায় যাতায়াতের সব বিমান আপাতত বাতিল রেখেছে ইন্ডিগো। এয়ার ইন্ডিয়াও বিবৃতি দিয়ে একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। পিটিআই সূত্রে খবর, দুবাই, জেড্ডা, দোহা, আবু ধাবি, দাম্মাম, বাহারিন, শারজা, কুয়েত এবং রস আল্-খাইমার মতো শহরগুলিতে পরিষেবা স্থগিত রেখেছে ইন্ডিগো।
ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকও ইতিমধ্যে একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ার কিছু অঞ্চলে আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যাতায়াতের বিমানগুলির পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। যাত্রীদের নিজ নিজ বিমানের স্টেটাস দেখে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রক। যাত্রীদের সাহায্যের জন্য একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। সেই কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের দু’টি নম্বরও সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।