একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ ও সংখ্যালঘুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের দায়ে বাংলাদেশে জামাতে ইসলামির শীর্ষনেতা মতিউর রহমান নিজামির ফাঁসির রায়ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। নিজামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না-চাইলে তাঁর ফাঁসি এখন সময়ের অপেক্ষা।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত ২০১৪-র ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়া সরকারের এই মন্ত্রীকে প্রাণদণ্ড দেওয়ার পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন। প্রায় দেড় বছর শুনানির পরে সর্বোচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার সে আপিল খারিজ করে দিল।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজের পরে জামাতের দুই নেতা কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। আবার জামাত নেতা আলি আহসান মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেও তা খারিজ হয়ে যায়। শেখ হাসিনা সরকার এই চার জন আসামিকেই ফাঁসি দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ দিন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজের পরে রায় কার্যকরের পথে সরকারের আর কোনও বাধা নেই।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার বিচারপতি এ দিন এজলাসে আসার পরে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এক শব্দের রায়ে জানান— ‘ডিসমিস্ড’। সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশ উল্লাসে মেতে ওঠে। ঢাকার শাহবাগে অবস্থান করে থাকা গণজাগরণ মঞ্চের সদস্যরা বিজয় মিছিল বার করেন।
পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর মদতে তৈরি সশস্ত্র বাহিনী আল বদরের প্রধান ছিলেন এই নিজামি। একাত্তরে পাক সেনারা তাঁকে ‘নাজিমে আলা’ নামে ডাকতেন। রাজাকার ও শান্তিবাহিনীর নেতৃত্বেও ছিলেন নিজামি। পরে জামাতে ইসলামির আমির হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন চট্টগ্রামে তাঁর মন্ত্রকের জেটিতেই অসমের জঙ্গি সংগঠন আলফার জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র নেমেছিল।
সে মামলাতেও তাঁকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছে।