Advertisement
E-Paper

শান্তির জলপাই গাছ হোন: পোপ

থাক খিটিমিটি। আজ প্রথম বার ভ্যাটিকানে এসে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে হাসি মুখেই হাত মেলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর পোপ তাঁর হাতে তুলে দিলেন রোমান শিল্পীর তৈরি একটি জলপাই গাছ খোদাই করা স্মারক।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০১৭ ০২:১১
করমর্দন: পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবি: এএফপি।

করমর্দন: পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবি: এএফপি।

থাক খিটিমিটি। আজ প্রথম বার ভ্যাটিকানে এসে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে হাসি মুখেই হাত মেলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর পোপ তাঁর হাতে তুলে দিলেন রোমান শিল্পীর তৈরি একটি জলপাই গাছ খোদাই করা স্মারক।

প্রাচীন গ্রীক সংস্কৃতি থেকে শুরু করে এবং গোটা ইউরোপেই জলপাই পল্লবকে শান্তির প্রতীক, বিরোধ অবসানের বার্তা ও শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হয়। শুধু উপহারের মাধ্যমে বার্তা দেওয়াই নয়, মুখেও পোপ বলেন, ‘‘আমি চাইব, আপনি এই জলপাই গাছের মতো করেই গোটা বিশ্বে শান্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ঠিক সেই পথেই হাঁটছেন। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আনার লক্ষ্যে যত দূর সম্ভব চেষ্টা করবেন বলে ইজরায়েল থেকে বার্তা দিয়েছেন। তিনি কি সে কথাই মনে করাতে চাইলেন এ দিন!

শুরুটা যদিও এমন ছিল না মোটেই। হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নেমে ট্রাম্প যে বার প্রথম মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার কথা বলেছিলেন, ফোঁস করে উঠেছিলেন পোপ। বলেছিলেন, যাঁরা দু’দেশের মধ্যে সেতুর বদলে দেওয়াল তোলার কথা বলেন, তাঁরা কোনও দিনই ‘প্রকৃত খ্রিস্টান’ হতে পারেন না। ট্রাম্পের ধারাবাহিক মুসলিম-বিদ্বেষী মন্তব্য নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিলেন পোপ। কিন্তু সাক্ষাতে সেই তিক্ততার ছোঁয়া রাখতে চাননি পোপ। পশ্চিম এশিয়া থেকে সোজা উড়ে আসা সস্ত্রীক ট্রাম্পকে আজ স্বভাবসুলভ হাসিমুখেই অভ্যর্থনা জানালেন তিনি। এর পরে শুধু প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সোজা চলে গেলেন নিজের পড়ার ঘরে। ফিরলেন পাক্কা ৩০ মিনিট কাটিয়ে।

কী নিয়ে কথা হলো দু’জনের?

রাজনীতি নিয়ে যে কোনও রকম আলোচনা হবে না, তা আগেই কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছিল দু’পক্ষ। বিশেষত ‘দেওয়াল’ নিয়ে তো নয়ই। অস্বস্তিটা তবু রয়েই গেল। অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তনের পরে এ বার ট্রাম্পের অস্ত্র-বিক্রি নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল ভ্যাটিকান সিটির তরফে। বিতর্কের সূত্রপাত গত কাল রাতে পোপের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ভ্যাটিকানের কর্মকর্তা কার্ডিনাল পিটার টার্কসনের একটি টুইট থেকে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘পোপ ফ্রান্সিস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেদের মতো করে মুসলিম বিশ্বকে সন্ত্রাসুমক্ত করার চেষ্টা করছেন। এক জন আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রস্তাব দেওয়ার পক্ষে। অন্য জন অস্ত্রের জোগান দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলছেন।’’ চলতি সফরের গোড়াতেই সৌদি আরবে গিয়ে তাদের কাছে ১১ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করে এসেছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, সন্ত্রাসের মদতদাতা ইরানের উৎপাত ঠেকানোর জন্যই জরুরি ছিল ওই অস্ত্রচুক্তি। কূটনীতিকদের দাবি, পোপ-ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির ফারাকটাই তুলে ধরেছেন টার্কসন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে পরিবেশ বাঁচানোর আর্জি নিয়ে এর আগে বহু রাষ্ট্রনেতার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন পোপ। তেমনই একটি চিঠি আজ তুলে দিলেন ট্রাম্পের হাতেও। পাল্টা উপহার হিসেবে মার্টিন লুথার কিং (জুনিয়র)-এর বইগুলির প্রথম সংস্করণের সেট দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প এই মুহূর্তে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের তৃতীয় পর্বে। এর আগে সৌদি আরবে গিয়ে ৪০টি মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দু’দিনের জন্য ঘুরে এসেছেন ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইন। আর আজ পোপের ঘরে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের অনেকেই তাই একে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বিশ্ব ধর্ম সফর’-এর তকমা দিতে চাইছেন। ইতালির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সেরে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যাবেন ট্রাম্প। ন্যাটোর সম্মেলনে।

Donald Trump US President Olive Tree Pope Francis ডোনাল্ড ট্রাম্প
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy