এক গুচ্ছ মুসলিম নামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল চিন। মুসলিম প্রধান জিনজিয়াং প্রদেশে ওই সব নামকরণগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে একটি মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে। নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা কোনও নাম যদি সন্তানের নামকরণের জন্য কেউ বেছে নেন, তা হলে সেই শিশুই সমস্যায় পড়বে। কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সে ভর্তি হতে পারবে না। কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে না। চিনা প্রশাসন এমন নির্দেশিকাই জারি করেছে বলে খবর।
চিনা প্রশাসনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার খবর যে মানবাধিকার সংগঠনটি প্রকাশ্যে এনেছে, সেই সংগঠনের নাম হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। যে নামগুলি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, গোটা পৃথিবীতেই সেই নাম বা সেই শব্দগুলি মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত। কিন্তু ওই সব শব্দ কারও নাম হিসেবে ব্যবহৃত হলে তাঁদের মধ্যে ‘ধর্মীয় উগ্রতা’ বাড়বে বলে চিন প্রশাসন মনে করছে।
জিনজিয়াং প্রদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই চিনের আধাসামরিক বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি বর্তমানে। ছবি: রয়টার্স।
ইসলাম, কোরান, মক্কা, মদিনা, হজ, জিহাদ, সাদ্দাম— জিনজিয়াং প্রদেশে এই সব নামকরণ চলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে চিনের কমিউনিস্ট সরকার। তালিকায় আরও অনেক নামই রয়েছে। জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য চিনা কমিউনিস্ট পার্টির যে নিজস্ব নামকরণ বিধি রয়েছে, তার আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে খবর। নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে কেউ যদি নিজের সন্তানের জন্য কোনও একটি নিষিদ্ধ নামই বেছে নেন, তা হলে সেই শিশুর ঠিকানা সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন হবে না বলে প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে। আর ওই রেজিস্ট্রেশন না হলে সে কোনও স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না। প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে।
আরও পড়ুন: সংযত হোন, বেজিং থেকে ফোন ট্রাম্পকে
চিনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইগুর মুসলিমদের উপস্থিতি বিপুল সংখ্যায়। সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে চিন বিরোধী কার্যকলাপ দিন দিন বাড়ছে। চিন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবিতে জিনজিয়াং-এ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপও চলছে দীর্ঘ দিন ধরেই। সম্প্রতি উইগুরদের মধ্যে আইএস-এর প্রভাব বৃদ্ধির খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বেজিং তাই আরও কঠোর ভাবে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে চাইছে। নামকরণে নিষেধাজ্ঞাও তারই অঙ্গ।