Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি সিআইএ প্রধানের

সংবাদ সংস্থা
ওয়াশিংটন ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৭:১৯
সিআইএ-র প্রধান মাইক পম্পিও। ছবি- সংগৃহীত।

সিআইএ-র প্রধান মাইক পম্পিও। ছবি- সংগৃহীত।

ভাল কথায় কাজ না হলে পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের উৎখাত করতে যা যা করণীয়, ওয়াশিংটন তা করতে পিছপা হবে না।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসের ইসলামাবাদ সফরের দু’দিন আগে পাকিস্তানকে এই ভাবেই হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) প্রধান মাইক পম্পিও।

সিআইএ-র প্রধান ‘ভয়েস অফ আমেরিকা’ রেডিওকে বলেছেন, ‘‘দেশ থেকে জঙ্গিদের নির্মূল করতে যা যা করার ইসলামাবাদ সেগুলি করুক। না করলে আমেরিকার যা যা করণীয়, তা করতে দেরি হবে না।’’

Advertisement

হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলের খবর, পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের উৎখাত করতে বদ্ধপরিকর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন। পাকিস্তানে বছরের পর বছর ধরে জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়ে থাকুক বা পাক ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদীরা প্রতিবেশী দেশগুলিতে তাদের নাশকতামূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাক, ট্রাম্প প্রশাসন তা আর বরদাস্ত করবে না। ওয়াশিংটন চাইছে, শুধুই কথার কথা নয়, জঙ্গি উৎখাতের কাজটা আন্তরিক ভাবে করুক ইসলামাবাদ। না করলে বা তা না করতে পারলে নিষেধাজ্ঞা জারির মতো পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তো বাড়ানো হবেই, এমনকী, কট্টর জঙ্গি ওসামা বিন লাদেনকে বধ করার মতো অভিযানও চালাতে পারে মার্কিন সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন- ‘রোহিঙ্গা’ না-বলাটা কৌশল পোপের

আরও পড়ুন- রাশিয়া-যোগ ‘বৈধ’ ফ্লিনের​

সেই জমিটা তৈরি করতেই মূলত ইসলামাবাদে যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব ম্যাটিস। তাঁর কাজ হবে পাক ভূখণ্ড থেকে জঙ্গিদের উৎখাত করতে ইসলামাবাদের তৎপরতা যে খুব জরুরি, সেটা পাকিস্তানকে বোঝানো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ম্যাটিসের মাধ্যমে সেই বার্তাই পাঠাচ্ছেন পাকিস্তানকে। বোঝাতে চাইছেন, আমেরিকা যে অনেক দিন ধরে ইসলামাবাদকে এই কথাটা বলে আসছে, তাকে যেন হাল্কা ভাবে না নেয় পাকিস্তান। এতে কাজ না হলে ওয়াশিংটনের কড়া ব্যবস্থা নিতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, জঙ্গিদের নির্মূল করার জন্য অন্য দেশে ঢুকে অভিযান চালালে ট্রাম্প প্রশাসনকে যাতে আন্তর্জাতিক চাপে পড়তে না হয়, মূলত তার জন্যই ম্যাটিসকে দিয়ে আগেভাগে ইসলামাবাদকে বার্তাটা দিয়ে রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন।

তবে সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে তো আঙুল বাঁকাতেই হবে!

ক্যালিফোর্নিয়ার সিমিতে শনিবার রেগন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোরামের একটি অনুষ্ঠানে সেই ইঙ্গিত দিতে দ্বিধা করেননি সিআইএ-র প্রধান পম্পিও। বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান সেটা না করতে পারলে তো আমরা বসে থাকতে পারি না। পাক ভূখণ্ড থেকে জঙ্গিদের পুরোপুরি নির্মূল করতে যা যা করার, আমেরিকা তা করতে একটুও দেরি করবে না।’’

কড়া কথাটা অবশ্য সিআইএ-র প্রধানের মতো অতটা কড়া ভাবে প্রকাশ্যে বলতে চাননি মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব ম্যাটিস। ইসলামাবাদ রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের ম্যাটিস বলেছেন, ‘‘আমি ঠিক ওই ভাবে এগোই না। সব সময় মনে করি, আলাপ, আলোচনার মধ্যে দিয়েই সমস্যা মেটে। আর তার পর হাতে হাত মিলিয়ে এক সঙ্গে যে কোনও কাজই করা যায়।’’

মার্কিন রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, প্রতিরক্ষা সচিব ম্যাটিস এই কথাটা বলেছেন একেবারে দক্ষ কূটনীতিকের মতো। ইসলামাবাদের মাটিতে পা না দেওয়ার আগে তিনি চাইছেন না পাক মুলুকের কট্টরপন্থীরা জেদ ধরে রাখার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ব্যাপারে সফল হোক। তাতে কাজ হাসিল করতে অসুবিধাই হবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের।



Tags:
US Pakistan CIAসিআইএ

আরও পড়ুন

Advertisement