Advertisement
E-Paper

সাংবিধানিক সঙ্কট শ্রীলঙ্কায়, ভারত-চিন ঠান্ডা যুদ্ধ

রনিল বিক্রমসিংঘকে সরিয়ে ফের ক্ষমতায় চিনের ‘মিত্র’ মহিন্দা রাজাপক্ষে। ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দশ বছরের শাসনকালে রাজাপক্ষে চিনের কাছ থেকে দেদার ঋণ নিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করেছিলেন। নতুন করে ক্ষমতায় এসে চিনকে তার প্রতিদান দিতে পারেন তিনি, এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। চিনও তার যথাযথ সদ্ব্যবহার করার এমন সুযোগ হাতছাড়া করবে না বলেই মত কূটনীতিকদের।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৮ ২১:৪০
শ্রীলঙ্কায় সাংবিধানিক সঙ্কটে চিন ও ভারতের প্রভাব বাড়ানোর ঠান্ডা লড়াই। —ফাইল ছবি

শ্রীলঙ্কায় সাংবিধানিক সঙ্কটে চিন ও ভারতের প্রভাব বাড়ানোর ঠান্ডা লড়াই। —ফাইল ছবি

শ্রীলঙ্কায় সাংবিধানিক সঙ্কট।রাজনৈতিক এই টালমাটাল পরিস্থিতির জেরে ভারত মহাসাগরীয় উপকূলে শুরু হয়েছে আধিপত্য কায়েমের ঠাণ্ডা যুদ্ধ। যার এক দিকে চিন, অন্যদিকে ভারত। যদিও কূটনৈতিক মহল মনে করছে, রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপক্ষের হাত ধরে ফের দ্বীপরাষ্ট্রের সরকারের এক্কেবারে অন্দরমহলে ঢুকে পড়বে চিনা ড্রাগনরা। ক্ষমতা খর্ব হবে নয়াদিল্লির। চেষ্টার কসুর নেই অন্যদিকে নয়াদিল্লির তরফেও।

রনিল বিক্রমসিংঘকে সরিয়ে ফের ক্ষমতায় চিনের ‘মিত্র’ মহিন্দা রাজাপক্ষে। ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দশ বছরের শাসনকালে রাজাপক্ষে চিনের কাছ থেকে দেদার ঋণ নিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করেছিলেন। নতুন করে ক্ষমতায় এসে চিনকে তার প্রতিদান দিতে পারেন তিনি, এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। চিনও তার যথাযথ সদ্ব্যবহার করার এমন সুযোগ হাতছাড়া করবে না বলেই মত কূটনীতিকদের।

অথচ ঠিক বিপরীত অবস্থানে ছিলেন বিক্রমসিংঘে। তাঁর বিদেশনীতিতে চিন ছিল ব্রাত্য। চিনকে বাদ দিয়ে ভারত ও জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতিই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। সেই সুযোগে ভারতেরও বিক্রমসিংঘের উপর কিছুটা কর্তৃত্ব ছিল। রাজাপক্ষে ক্ষমতায় আসায় বিক্রমসিংঘের মিত্রদের ছেড়ে যে নিজের পুরনো বন্ধু চিনের উপরই বেশি ভরসা রাখবেন, তা বলাই যায়।

আরও পড়ুন: নিজের শহর দিল্লিতে আর ফেরা হল না লায়ন এয়ারের পাইলট সুনেজার

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইউরেশিয়া গ্রুপের এশিয়ার ডিরেক্টর শৈলেশ কুমার যেমন বলেছেন, ফের কলম্বোর শেষ আশা হিসাবে উঠে আসতে চলেছে চিন। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, ‘‘নতুন করে চিনের জন্য দরজা খুলে দেবেন রাজাপক্ষে। এই পরিবর্তনের ফলে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে আরও একবার ছড়ি ঘোরাবে চিন। কারণ সরকারে তাদের ‘বন্ধু’ রাজাপক্ষে। যাঁর অবস্থান বিক্রমসিংঘের ঠিক উল্টো।’’

আবার অতি সম্প্রতি আর এক দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে বেজিং ঘনিষ্ঠ আবদুল্লা ইয়ামিন পরাজিত হয়েছেন। নতুন সরকার কার্যত চিনা-প্রভাব মুক্ত থেকে কাজ করতে চাইছে। সেই ক্ষমতা হারানোর ক্ষত নিয়ে ফুঁসছে ড্রাগন। মালদ্বীপের নতুন সরকারের ভারত-প্রীতির কথাও তাদের অজানা নয়। তাই শ্রীলঙ্কার উপর প্রভাব কায়েম করে প্রতিশোধের রাস্তাতেও হাঁটতে পারে বেজিং।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ফরাসি ছাত্রীর যৌন নিগ্রহ করলেন আশ্রয়দাতা পড়ুয়ার বাবা

কিন্তু ভারতও কি এত সহজে ছেড়ে কথা বলবে? নিজেদের ক্ষমতা খর্ব হতে দেখেও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? মোটেই নয়। ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বেজিং-নয়াদিল্লি দ্বৈরথে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও নজর রাখছে পাশ্চাত্যও। অশান্তি এড়িয়ে সব দলই সংবিধান মেনে কাজ করুক, আর্জি জানিয়েছে আমেরিকা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

Sri Lanka Constitutional Crisis India China Cold War Indian Ocean
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy