Advertisement
E-Paper

এ বার পুতুল খেলবে ছেলে-বেলাও

ছোট্ট ঋজু। গত বারের জন্মদিনে পিসিমনির দেওয়া পুতুলটা দেখেই নাক কুঁচকে গিয়েছিল তার। ‘এ মা, পুতুল তো মেয়েরা খেলে!’

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০১৬ ০৩:৩৪
এমন পুতুলই বানাতে চান জেনিফার।

এমন পুতুলই বানাতে চান জেনিফার।

ছোট্ট ঋজু। গত বারের জন্মদিনে পিসিমনির দেওয়া পুতুলটা দেখেই নাক কুঁচকে গিয়েছিল তার। ‘এ মা, পুতুল তো মেয়েরা খেলে!’

বাবার সঙ্গে খেলনার দোকানে গিয়ে হিয়ার পছন্দ আবার সাজগোজ করা বার্বিটাই। হাজার রকমের কলকব্জাওয়ালা, আলো জ্বলা বন্দুকটাও ভালো। কিন্তু তার ওই বার্বিটাই চাই।

পুতুল মেয়েদের খেলনা, বল বা বন্দুক ছেলেদের, কিংবা গোলাপি মেয়েদের রং, নীল পরবে ছেলেরা— ছোটবেলা থেকেই ভিতরে ঢুকে যাওয়া এই বৈষম্য কিছুটা সামাজিক, কিছুটা অভ্যাসগত। আবার এর মধ্যেই গোপনে মিশে থাকে কিছুটা বাণিজ্যিক অভিঃসন্ধিও। তবে এ বার বদলাতে চলেছে সেই ধারণাটাই।

Advertisement

জেনিফার পেরি। ম্যাসাচুসেটসের ববসন কলেজ থেকে শিল্পোদ্যোগ নিয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন সদ্যই। আপাতত ফ্লোরিডার বাসিন্দা বছর তেইশের জেনিফার। এ বার তাঁর হাত ধরেই
পুতুলের দুনিয়ায় আসতে চলেছে পরিবর্তন। জেনিফারের দাবি, ছেলেদের ছোট থেকেই পুতুলের উপর যে স্বাভাবিক অপছন্দ তৈরি হয়, তার একটা কারণ অবশ্যই পুতুলের গড়ন। এক দিন একটি পুতুলের দোকানে পৌঁছে জেনিফার দেখেন, সেখানে যাবতীয় পুতুলই মেয়ে এবং শ্বেতাঙ্গ। আর সে দিন থেকেই বদলের জেদ চেপে বসে জেনিফারের মাথায়। আপাতত নিজের নতুন কাজেই চূড়ান্ত ব্যস্ত তিনি। লক্ষ্য বাজারে নতুন নকশার পুতুল নিয়ে আসা। ছেলেদের জন্য ছেলে পুতুল। শুধু তা-ই নয়, প্রত্যেক দেশের শিশু জন্মগত ও প্রকৃতিগত ভাবে আলাদা আলাদা দেখতে। সেই কথা মাথায় রেখেই পুতুলদের আকৃতিতেও থাকতে চলেছে বৈচিত্র্য। কেউ বা হবে আফ্রিকানদের মতোই কৃষ্ণাঙ্গ। কারও আবার গড়ন ‘রেড ইন্ডিয়ানদের’ মতো। মোট কথা, পুতুলের দোকানে গিয়ে ছেলেরা যাতে নিজেদের মতোই কাউকে খুঁজে নিতে পারে। নতুন সংস্থার নামেও রয়েছে অভিনবত্ব। মানব শরীরে থাকা মেলানিন মানুষের গায়ের রঙের
জন্য দায়ী। আর তার থেকেই তিনি তাঁর সংস্থার নাম রেখেছেন ‘মেলানিটিস’। জেনিফারের লক্ষ্য শুধু বিশ্ববাজারে নতুন ধরনের খেলনা আনাই নয়, বর্ণবিদ্বেষের শিকড়কেও উপড়ে ফেলা।

জেনির বানানো প্রত্যেকটি পুতুল হতে চলেছে এমনই বৈচিত্র্যপূর্ণ। প্রত্যেকেরই থাকবে আলাদা আলাদা গল্প। যার মধ্যে দিয়ে নিজেকে খুঁজে নেওয়ার পাশাপাশি অনুপ্রাণিতও হবে শিশুরা। এমনকী, তাঁদের চরিত্র নিয়ে ছোট ছোট গল্পের বইয়ের কথাও ভাবছেন তিনি। যেমন জায়লেন নামে পুতুলটি হবে বিজ্ঞানী, ‘রেড ইন্ডিয়ান’-দের মতো দেখতে পুতুল মার্কুইস হবে এক জন শিল্পী। কেউ বা জ্যোতির্বিজ্ঞানী, কেউ বা প্রত্নতত্ত্ববিদ। যাদের পেশা দেখে শিশুমন ছোট থেকেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগোচ্ছে খেলনার বাজার। সম্প্রতি একটি খেলনা বিক্রয়কারী সংস্থা বাজারে এনেছে মেয়েদের জন্য বিশেষ ধরনের খেলনা বন্দুক। অভিভাবকেরাও মনে করছেন, পুতুলের দুনিয়ায় অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে নারী শক্তি। তা হলে আর ছেলেরাই বা কেন পিছিয়ে থাকবে?

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy