আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলল ইরান। সোমবার সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির তোপ, ইরানের বেলায় ‘কুমিরের কান্না’। কিন্তু গাজ়া ভূখণ্ডে ইজ়রায়েল ‘অন্যায়’ করে গেলেও মুখে কুলুপ এঁটে থাকে আমেরিকা এবং তার ঘনিষ্ঠ পশ্চিমের দেশগুলি।
আরাগচি বলেন, “পশ্চিমি দুনিয়া (আমেরিকা এবং তার ঘনিষ্ঠ ইউরোপের দেশগুলি) ইরানের সন্ত্রাসবাদীদের জন্য কুমিরের কান্না কাঁদে। কিন্তু গাজ়ায় ইজ়রায়েলের অপরাধের সাক্ষী থাকার পরেও চুপ করে থাকে।” ইরানের বিদেশমন্ত্রী সে দেশের বিক্ষোভকারীদেরই প্রকারান্তরে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বললেন কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী সংবাদসংস্থা এপি-কে জানিয়েছেন, সে দেশের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের হাতে কী ভাবে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, তার ভিডিয়ো ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে। ইতিমধ্যেই যে সমস্ত বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের বয়ান খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের অপসারণ চাইছেন ইরানের মানুষ। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে কঠোর হয়েছে ইরান প্রশাসন। নির্বিচারে প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদসংস্থার রিপোর্টে দাবি, ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫৩৮। গুলিবিদ্ধ রোগীতে উপচে পড়ছে হাসপাতালগুলি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিক্ষোভে সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়টি ভেবে দেখছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে অশান্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়, কী কী কঠোর পদক্ষেপ করা যায়, মার্কিন বাহিনীর সামনে কী বিকল্প রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘আমাদের বাহিনী এই দিকেই তাকিয়ে আছে। আমরা ইরানে খুব শক্তিশালী পদক্ষেপের কথা ভাবছি।’’
শনিবার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল। রবিবার অবশ্য ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রশাসন আলোচনায় বসবে। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েই তেহরান সুর নরম করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।