ইরানের নব-নির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেইয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিল দেশের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনী ‘নোপো’। সন্ত্রাসদমনে দক্ষ এই বাহিনীর বিরুদ্ধে অবশ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। এ দিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁদের দাবি না মানলে ইজ়রায়েলের সাহায্যে মোজতবাকেও ‘নিকেশ করা হবে’।
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে আজই প্রথম মুখ খুললেন নিহত প্রাক্তন ধর্মগুরু আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মেজো ছেলে মোজতবা। কেন এত দিন তিনি প্রকাশ্যে আসেননি, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এ প্রসঙ্গে ইরানের কোনও শীর্ষকর্তা এত দিন মুখ না খুললেও গতকাল সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজ়া সালারিয়ান একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপরে যে হামলা হয়েছিল, তাতে জখম হয়েছিলেন মোজতবাও। তাঁর হাতে ও পায়ে চোট লেগেছিল। এত দিন তিনি হাসপাতালেই ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে যখন হামলা চালানো হয়, তখন আয়াতোল্লার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা, পুত্রবধূরা, মেয়েরা, জামাইরা ও নাতি-নাতনিরা ছিলেন। নিহতদের তালিকায় আয়াতোল্লা ছাড়াও আছেন তাঁর স্ত্রী, এক মেয়ে, এক জামাই, মোজতবার স্ত্রী, তাঁদের ছেলে ও আয়াতোল্লার এক ১৪ মাস বয়সি নাতনি।
রাষ্ট্রদূত সালারিয়ান কাল সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের অনুমান, ইজ়রায়েল ও আমেরিকা মোজতবার উপরে হামলার চেষ্টা করবে।” তাঁর সেই অনুমানকে ঠিক প্রমাণ করে আমেরিকার একটি প্রথম সারির সংবাদপত্র ও একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “মোজতবাকে আমরা শান্তিতে থাকতে দেব না। তিনি যদি আমেরিকার দাবি মেনে না নেন, অর্থাৎ সব ধরনের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ না করেন, তা হলে তাঁকেও নিকেশ করে দেওয়া হবে এবং সেই অভিযানকে আমি সম্পূর্ণ সমর্থন করব।” আমেরিকার সেনাবাহিনী সূত্রের দাবি, এ ধরনের কোনও হামলা চালানো হলে ২৮ ফেব্রুয়ারির অভিযানের মতো এ বারও দায়িত্বে থাকবে ইজ়রায়েল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)