Advertisement
E-Paper

‘ভারত-চিন নরকের মতো’! জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আবার সরব ট্রাম্প, শেয়ার করলেন পুরনো পডকাস্ট

রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট লিখিত আকারে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই পোস্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের যুক্তিগুলির সমালোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৪
Donald Trump\\\\\\\\\\\\\\\'s hellhole mention for India, China

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

নাগরকিত্ব আইনে বদল চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বিষয়টা এখনও ঝুলে রয়েছে আদালতে। তবে ট্রাম্প বার বার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেন। আবার ওই বিষয়ে একটি পোস্ট করলেন তিনি। ট্রাম্প যে পোস্টটি নিজের ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেছেন, সেখানে ভারত, চিন-সহ অন্য দেশগুলিকে নরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল নিয়ে ট্রাম্পের বিরোধিতা করে অনেকগুলি মামলা হয়। ওয়াশিংটন ফেডারেল আদালত, ম্যাসাচুসেট্‌স আদালত এবং মেরিল্যান্ড আদালত মার্কিন সংবিধানের ১৪তম ধারা সংশোধনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুনানি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। পরে বিষয়টি গড়ায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে। তবে তারা বলেছে, ‘‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর বিচারবিভাগের নিরবচ্ছিন্ন কর্তৃত্ব থাকতে পারে না। আসলে আইনই অনেক সময় আদালতকে এমনটা করতে বাধা দেয়।’’ যদিও ট্রাম্প সরকার নতুন নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার উপর স্থগিতাদেশও দিয়েছিল মার্কিন শীর্ষ আদালত।

রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট লিখিত আকারে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই পোস্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের যুক্তিগুলির সমালোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি লিখেছেন, ‘‘এখানে (আমেরিকায়) একটি শিশু জন্মালে সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। তার পরে তারা চিন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনও ‘হেলহোল’ (নরককুণ্ড) থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’’ একই সঙ্গে চিনা এবং ভারতীয়দের ‘ল্যাপটপ হাতে গুন্ডা’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয়, চিনারা আমেরিকার পতাকাকে পদদলিত করে।

Advertisement

ওই পডকাস্ট জুড়ে ছিল ভারতবিরোধী কথাবার্তা। ট্রাম্পের পোস্টে সেই বিষয়ই উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন, ‘সব মাফিয়া পরিবার মিলে যা করেছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি ওরা করেছে। ল্যাপটপ হাতে ওরা আসলে গুন্ডা। ওরা আমাদের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। আমাদের দেশেই আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষের মতো ব্যবহার করে।’ বিষয়টি নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানায়, তাদের নজরে আছে। তারা বিবেচনা করে দেখছে বলে জানায় জয়শঙ্করের মন্ত্রক।

প্রসঙ্গত, আমেরিকার আইনে জন্মসূত্রের নাগরিকত্বকে বলা হয় ‘জুস সোলি’। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ল্যাটিন শব্দ। যার অর্থ হল ‘মাটির অধিকার’। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা হয়েছে, সেখানে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে স্বাভাবিক ভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। শিশুটির মা-বাবা অন্য দেশের নাগরিক হলেও সে জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবে। ১৮৬৮ সালে ১৪তম সংশোধনীতে এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টিকে আমেরিকার সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যদিও ১৮৫৭ সালে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, জন্মসূত্রে কেউ আমেরিকার নাগরিকত্ব দাবি করতে পারবেন না।

দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করা নিয়ে উদ্যোগী হন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভোটে জয়ের পরেই ট্রাম্প সে দেশের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ১৫৬ বছরের পুরনো আইন বদলানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। গত বছর জানুয়ারিতে এ সংক্রান্ত এক সরকারি নির্দেশনামায় সই করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তার পরেই বিষয়টি যায় আদালতে।

Birthright Citizenship Law Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy