ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজ়া ভূখণ্ডকে আগেই ‘রিসর্ট শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন তিনি। সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই গাজ়াকেই আরও এক বার ‘একটি সুন্দর সম্পত্তির টুকরো’ বলে বর্ণনা করলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট তথা শিল্পপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প-কন্যা ইভাঙ্কার স্বামী জ্যারেড কুশনার-ও দাভোসের মঞ্চে গাজ়ায় আবাসন শিল্প নিয়ে একটি ‘প্রেজ়েন্টেশন’ দিয়েছেন। সেই সঙ্গেই কুশনার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গাজ়ায় আবাসন শিল্প গড়া নিয়ে দ্বিতীয় কোনও পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) তাঁদের নেই। অর্থাৎ ট্রাম্প ঠিক যে ভাবে ভেবে রেখেছেন, সেই মতোই রিয়েল এস্টেটের কাজ এগোবেন তাঁরা। ট্রাম্প প্রস্তাবিত গাজ়ার শান্তি বোর্ডের সনদে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২০টি সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেন সরাসরিই সেই বোর্ডে যোগ দেবে না বলে গত কাল স্পষ্ট করেছে। এখনও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি ভারতও।
ট্রাম্পের জামাই কুশনার এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করেছেন। গাজ়ায় সংঘর্ষবিরতি বাস্তবায়িত হওয়ার আগে অনেক বার শান্তিদূত হিসেবে অথবা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসতেও দেখা গিয়েছে কুশনারকে। ধনকুবের তথা শিল্পপতি কুশনারের গাজ়া ভূখণ্ড নিয়ে এত আগ্রহ কেন, তা নিয়ে তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। এ বার কুশনার দাভোসের মঞ্চে ইঙ্গিত দিয়েই রাখলেন, গাজ়ায় আবাসন শিল্প গড়া নিয়েই মূলত আগ্রহ তাঁর। এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনও পক্ষের মতামতে যে আমল দেওয়া হবে না, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তান, ইজ়রায়েল, আর্জেন্টিনার মতো আমেরিকার বন্ধু দেশগুলি গাজ়া শান্তি বোর্ডের সনদে সই করেছে। গত কাল দাভোসে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী আর আজ়ারবাইজ়ানের প্রেসিডেন্টের মাঝে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘এখানে সবাই আমার বন্ধু। প্রত্যেকটা দেশকে আমি পছন্দ করি। আপনারা ভাবতে পারেন?’’ এই আজ়ারবাইজ়ান আর আর্মেনিয়ার দ্বন্দ্বই সেই অষ্টম যুদ্ধ যা ট্রাম্প থামিয়েছেন বলে দাবি করেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যঞ্চেজ় অবশ্য সরাসরি গাজ়ার বোর্ডে থাকতে রাজি নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকির মুখে ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়ের মতো ইউরোপের বাকি শক্তিধর দেশগুলিও সেই পথেই হাঁটতে চলেছে বলে খবর। ট্রাম্প অবশ্য প্রত্যয়ী, বেশির ভাগ ইউরোপীয় দেশই পরে সই করতে রাজি হয়ে যাবে। ট্রাম্পের দাবি, ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নাকি তাঁকে জানিয়েছেন, দেশের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাশ না করিয়ে তিনি সনদে সই করতে পারবেন না। আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োরও দাবি, কিছু কিছু দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ নীতির জন্য এখনই সনদে সই করতে পারেনি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই মহৎ উদ্যোগে বাকি দেশও এগিয়ে আসবে বলে তাঁর বিশ্বাস বলে জানিয়েছেন রুবিয়ো।
তবে দাভোসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আরও একবার বিরোধ বেধেছে ট্রাম্পের। এই মঞ্চেই ট্রাম্প নিজের বক্তৃতায় আমেরিকার উপরে কানাডা পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু কানাডার প্রধানমন্ত্রী সেই দাবি উড়িয়ে জানিয়েছেন, কানাডা আর আমেরিকা খুব ভাল বন্ধু হলেও কানাডার বাসিন্দারা কোনও ভাবেই আমেরিকার উপরে নির্ভরশীল নন। সেই সঙ্গেই চড়া শুল্ক চাপানোর জন্য আমেরিকার ‘কর্তৃত্ব’ নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি কার্নি। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প তাই কার্নিকে চিঠি লিখে গাজ়ার শান্তি কমিটি থেকে কানাডাকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)