E-Paper

মাঝেমধ্যেই ফোনে সতর্কবার্তা, এটাই কি ‘নয়া স্বাভাবিক’

গত শনিবারের পর থেকে দিন দুয়েক দুবাই প্রায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছিল। শনিবার রাতে দুবাই মেরিনার এক বহুতলে ধ্বংস করে দেওয়া ড্রোনের টুকরো ঢুকে আগুন লেগে যায়। কিন্তু তার পর থেকে অনেকটাই শান্ত ছিল দুবাই।

রুমি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩০
আবু ধাবিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানার বিরাম নেই!

আবু ধাবিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানার বিরাম নেই! —ফাইল চিত্র।

১২ দিন হয়ে গেলেও যুদ্ধের আঁচ থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলির রেহাই মিলছে না। আজ দুপুরে দুবাই এয়ারপোর্টের কাছে ইরানের দু’টি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ভারতীয়-সহ চার জন আহত হন। সেই সময়ে ওড়ার অপেক্ষায় থাকা বিমানগুলিকে সাময়িক ভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীদের বিমানেই অপেক্ষা করতে বলা হয়।

অথচ গত শনিবারের পর থেকে দিন দুয়েক দুবাই প্রায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছিল। শনিবার রাতে দুবাই মেরিনার এক বহুতলে ধ্বংস করে দেওয়া ড্রোনের টুকরো ঢুকে আগুন লেগে যায়। কিন্তু তার পর থেকে অনেকটাই শান্ত ছিল দুবাই। ধরেই নেওয়া হয়েছিল, এ বার বুঝি থামল! তাই দিন দশেকের বন্দিদশা কাটিয়ে গত কাল থেকে জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছিল। কাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। মরুশহরে এমন আবহাওয়া খুব বেশি জোটে না। মানুষ বাইরে বার হতে শুরু করেন। তার মধ্যে আজ দুপুরে আবার সতর্কবাতা, প্রয়োজন না হলে ঘরেই থাকুন।

এ দিকে, আবু ধাবিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানার বিরাম নেই! সেখানকার বাসিন্দা স্নেহা চট্টোপাধ্যায় জানালেন, সারা দিনই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের আওয়াজ মিলছে। কাল রাতে তিন বার সতর্কবার্তা এসেছে। আতঙ্কে কাটছে, রাতে কখন আবার মোবাইল বেজে উঠবে!

দুবাইয়ের বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক সেন্টু আবদুল্লার কাছ থেকে জানতে পারলাম, তাঁদের সংস্থা চালকদের বারবার আশ্বস্ত করছে, কিন্তু কিছু চালক তা-ও বার হতে সাহস পাচ্ছেন না। গত শনিবার দুবাই মেরিনায় বহুতলে ড্রোন হানার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক জন পাকিস্তানি ট্যাক্সি ড্রাইভার মারা যান। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়লে এক বাংলাদেশি ড্রাইভার কোনও ক্রমে গাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচেন।

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। দেশের প্রতিরক্ষা দফতর জানাচ্ছে, ২৬০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও প্রায় দেড় হাজার ড্রোন হানা হয়েছে ইরান থেকে। যার মধ্যে ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে। ছ’জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধ-পরিস্থিতিতেও জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক। দুবাই ও আবু ধাবি নিজের তালে স্বাভাবিক থাকার অদম্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দুবাইয়ের শেখ রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সময় কাটিয়ে বার্তা দিচ্ছেন— সব কিছুই স্বাভাবিক ও নিরাপদ। আবু ধাবির শেখ ও আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট জ়ায়েদ আল নাহিয়ান হাসপাতালে ক্ষেপণাস্ত্র হানায় আহতদের দেখতে গিয়ে আশ্বস্ত করেন ও জানান আহতদের দায়িত্ব দেশের।

যুদ্ধের আঁচ পেয়ে দিন দশেক আগেই সাধারণ মানুষ জিনিসপত্র মজুত করতে শুরু করেন। সুযোগ বুঝে ছোটখাট সুপারমার্কেট অনেক জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রথমেই এই নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন দুবাই কর্তৃপক্ষ। দেশের এমন পরিস্থিতিতে যারা এ ধরনের আসাধু আচরণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

বিবিধ ভাবে এই আপতকালীন পরিস্থিতিতে বারবার সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। তাই সামগ্রিক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সাধারণ মানুষের অধিকাংশই আস্থা রাখছে সরকারের উপরে। কবে কাটবে এই দুর্যোগ, তার উত্তর এখনও অজানা। তা সত্ত্বেও অনেকেই এই মুহূর্তে দেশ ছাড়তে নারাজ। হঠাৎ সতর্কবার্তা জারি ও সাময়িক ভাবে কিছু সময় কোথাও আশ্রয় নেওয়া ছাড়া বাকি সব আগের মতোই। অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশের নাগরিকদের আরব আমিরশাহি থেকে ফেরানোর জন্য বিশেষ বিমান পাইয়েছিল। এখানে প্রায় ২৪ হাজার অস্ট্রেলীয় বসবাস করেন। কিন্তু সিডনি ও মেলবোর্নে সেই সব উড়ান ফিরে যাওয়ার পরে দেখা যায়, বিমানের অধিকাংশ আসন ফাঁকা। মাত্র শ’পাঁচেক যাত্রী অস্ট্রেলিয়া ফিরেছেন।

এটাই যেন এখন নতুন স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে উঠেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Iran-Israel Situation US-Israel vs Iran Dubai West Asia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy