Advertisement
E-Paper

প্রাণভিক্ষার আবেদন বাংলাদেশের দুই প্রাক্তন মন্ত্রীর

খালেদে জিয়া সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীকে কি আজই ফাঁসি দেওয়া হবে? শনিবার সকাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে হঠাত্ করে তত্পরতা বেড়ে যাওয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীদের দ্রুত ফাঁসির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ঢাকায় বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যার মাথা আলি আহসান আল মুজাহিদ ছিলেন খালেদার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৫ ১৪:৩২
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলি আহসান মহম্মদ মুজাহিদ।—ফাইল চিত্র।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলি আহসান মহম্মদ মুজাহিদ।—ফাইল চিত্র।

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানালেন ফাঁসির সাজা পাওয়া খালেদা জিয়া সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী।

ঢাকায় বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যার মাথা আলি আহসান আল মুজাহিদ ছিলেন খালেদার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। আর চট্টগ্রাম থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উজাড় করার কৃতিত্ব যাঁর— সেই সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ছিলেন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় উপদেষ্টা। গণহত্যা ও মানবতা-বিরোধী অপরাধে দু’জনকেই প্রাণদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক আদালত। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টও তা বহাল রাখে। তার পরেও সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেছিলেন দুই আসামি। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিন্‌হার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সেই আবেদনও খারিজ করে দেয়। এর পরে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানোর সুযোগ থাকছে দুই আসামির। শনিবার সকালে দুই ম্যাজিস্ট্রেট জেলে গিয়ে ওই দু’জনের সঙ্গে দেখা করে জানতে চান তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাচে প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন কি না। এর আগে জামাতের দুই নেতা কাদের মোল্লা এবং কামারুজ্জামান ফাঁসির সময়েও তাঁরা রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষা চাননি। তবে সাকা চৌধুরীরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত শোনা যাচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় জানিয়েছেন, তাঁদের দলের নেতার প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। কিন্তু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী বলেছেন, সালাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর আইনজীবীদের দেখা করতে না দেওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব নয় তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। এই পরিস্থিতিতে তাঁর লন্ডন সফর কাটছাঁট করে ঢাকা ফিরছেন খালেদা জিয়া।

একাত্তরে আল বদরের প্রধান মুজাহিদ স্বাধীনতাপন্থী বাঙালি বিশিষ্ট জনেদের ‘খতম তালিকা’ তৈরি করে সহযোগী পাকিস্তানি সেনাদের দিয়েছিলেন। পরাজয়ের আগে সেই তালিকা ধরে বিশিষ্ট অধ্যাপক, শিল্পী, লেখক ও চিকিৎসকদের বাড়ি থেকে তুলে এনে খুন করে পাক সেনারা। তখনও মুজাহিদ ছিলেন সেনাদের সঙ্গে। পরে জামাতে ইসলামির শীর্ষ নেতা হন মুজাহিদ। এখনও তিনি দলটির সাধারণ সম্পাদক।

আবার সাকা চৌধুরী বাহিনী তৈরি করে চট্টগ্রামকে সংখ্যালঘু শূন্য করার অভিযান চালান। অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের মাথা কেটে আনলে তিনি পুরস্কারের ঘোষণা করেছিলেন। একটি দখল করা বাড়িতে ‘টর্চার ও কিলিং ক্যাম্প’-ও চালাতেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তিনি প্রথমে পাকিস্তান ও পরে ব্রিটেনে চলে যান। জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে ফিরে বিএনপি-তে যোগ দেন সাকা। খালেদা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে সংসদীয় উপদেষ্টা করেন। খালেদার আমলে চট্টগ্রামে ধরা পড়া আলফার জন্য পাঠানো ১০ ট্রাক অস্ত্র যে জাহাজে করে এসেছিল, সেটিরও মালিক ছিলেন সাকা চৌধুরী।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy