পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ইজ়রায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিল আরও এক ইউরোপীয় দেশ! জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ় প্রকাশ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন, ইজ়রায়েলকে সাহায্য করবে জার্মানি। এর আগে ব্রিটেনও ইজ়রায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় আরও যুদ্ধবিমান এবং অন্য যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। ব্রিটেন এবং ব্রিটেনের ‘বন্ধুরাষ্ট্র’কে কোনও হামলা থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি স্টার্মার প্রশাসনের। এ বার জার্মানিকেও নিজেদের পাশে পেল ইজ়রায়েল।
রবিবার মার্জ় জানান, জার্মানির কাছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র চেয়েছে ইজ়রায়েল এবং জার্মানি তা সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ইরান কোনও ভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ থামাতে আলোচনার পথ খোলার কথাও বলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর। বস্তুত, আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ ভেঙে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে গত শুক্রবার ইরানের পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইজ়রায়েলি বাহিনী। প্রত্যাঘাত করে ইরানও। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে শুরু করেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ইজ়রায়েল। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকাকেও এক প্রকার পাশেই পেয়েছে ইজ়রায়েল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের উপর এই হামলার কথা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তাঁর দাবি, এই হামলা ঠেকাতে, আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়ার অনেক চেষ্টা তিনি করেছিলেন। কিন্তু ইরান তাদের অবস্থানে ছিল অনড়। সেই কারণেই তাদের এই পরিণতি।
আরও পড়ুন:
ইরানের সন্দেহ, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলকে সাহায্য করে যাচ্ছে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় কিছু দেশ। সেই সন্দেহ থেকেই আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইজ়রায়েলকে সাহায্য করলে ওই তিন দেশের পশ্চিম এশিয়ায় যত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে হামলা হতে পারে। ট্রাম্পও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি কোনও ভাবে আমেরিকার উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তা হলে ‘তছনছ’ করে দেওয়া হবে ইরানকে।
এরই মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস দাবি করে, ইরান তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সাইপ্রাসের মাধ্যমে ইজ়রায়লকে তারা কিছু বার্তা দিতে চায় বলে দাবি করেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোলিডেস। যদিও ইরান পরে দাবি করে, তাদের সঙ্গে এমন কোনও কথা হয়নি সাইপ্রাসের। কোনও তৃতীয় দেশের মারফত ইজ়রায়েলকে কোনও বার্তা পাঠাতে ইরান আগ্রহী নয় বলেও দাবি তেহরানের।