Advertisement
E-Paper

৩ হাজার নয়, ইরানে মৃত্যু ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে! অধিকাংশের মাথায় গুলি, খামেনেইয়ের কড়া দমননীতির বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীদের

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ইরানে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬,৫০০। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অধিকাংশের মাথায় গুলি লেগেছে এবং তাঁদের বয়স ৩০ বছরের নীচে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০০
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনের সংবাদসংস্থা (এইচআরএএনএ) দাবি করেছে, ইরানের বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ৩,০৯০। তাঁদের মধ্যে ২,৮৮৫ জন বিক্ষোভকারী এবং বাকিরা সাধারণ মানুষ। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা সেই দাবি উড়িয়ে দিচ্ছে। ইরান থেকে চিকিৎসকেরা দাবি করছেন, মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬ হাজার। অধিকাংশের বয়স ৩০ বছরের নীচে এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। বহু প্রতিবাদীর মাথায় গুলি করা হয়েছে বলেও দাবি নতুন রিপোর্টে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য টাইম্‌স ইরানের প্রত্যক্ষদর্শী, মূলত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ইরানে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬,৫০০। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ জখম হয়েছেন। কোনও না কোনও হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছায় সেখানে বিনামূল্যে পরিষেবা দিচ্ছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক। সেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ইরানি চিকিৎসক আমির পারাস্তা। তাঁর দাবি, বিদ্রোহ ঠেকাতে সামরিক অস্ত্র প্রয়োগ করছে তেহরান। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হচ্ছেন। কারও মাথায়, কারও কাঁধে, কারও বুকে গুলি বিঁধছে।

পারাস্তা নিজে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ। ইরানের আটটি বড় চোখের হাসপাতালের পরিসংখ্যান এবং ১৬টি জরুরি বিভাগের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে তিনি দাবি করেছেন, সরকারি দমননীতির কারণে সাড়ে ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলারাও রয়েছেন। ৭০০ থেকে ১০০০ মানুষ চোখ হারিয়েছেন। তেহরানের একটি হাসপাতালেই চোখে ক্ষত নিয়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন অন্তত সাত হাজার মানুষ। এ ছাড়া, রক্তের অভাবেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালগুলি রোগীতে উপচে পড়ছে। হাসপাতালের কর্মী, অনেক জায়গায় চিকিৎসকেরা নিজেদের রক্ত দান করে রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসক পারাস্তার কথায়, ‘‘ওরা বলেছিল, যত ক্ষণ না বিক্ষোভ থামছে, ওরা হত্যা চালিয়ে যাবে। সেটাই করা হচ্ছে। এটা গণহত্যা।’’

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ পথে নামলেও ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নেয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিক্ষোভ দেখান হাজারো মানুষ। আমেরিকা এই গণবিক্ষোভকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বিদ্রোহীদের দমাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করে। নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। শনিবার খামেনেই প্রথম তাঁর দেশে কয়েক হাজার মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন ট্রাম্পকে। ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকাও।

Iran Ayatollah Ali Khamenei US Iran Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy