আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি সমর্থন না-করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার ইউরোপ কি তার বদলা নিতে চলেছে? ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাদের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই মিলছে। বাতিল করে দেওয়া হতে পারে আমেরিকার সঙ্গে ইইউ-র বাণিজ্যচুক্তি। গত বছর ওই সংক্রান্ত সমঝোতা হলেও চুক্তিটি ইউরোপ থেকে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ব্রাসেল্সের (বেলজিয়ামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতর) বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি সমঝোতা হয়েছিল ২০২৫ সালে। তাতে বলা হয়েছিল, আমেরিকার পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দেবে ইউরোপ। ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশে মার্কিন পণ্যের উপর কোনও শুল্কই নেওয়া হবে না। পরিবর্তে ইউরোপের পণ্যের উপরেও ট্রাম্প শুল্ক সীমিত রাখবেন। ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক নিতে পারবেন না। এই সংক্রান্ত সমঝোতা হলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে এখনও অনুমোদন মেলেনি। ইইউ-তে এখনও তা ঝুলে আছে। ট্রাম্প ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর নেতা ম্যানফ্রেড ওয়েবার বলেছেন, ‘‘আমরা ইইউ-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিকে সমর্থন করি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর ওই চুক্তিতে এখন অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। মার্কিন পণ্যে ০% শুল্ক আপাতত স্থগিত থাকছে।’’
আরও পড়ুন:
ইইউ-এ ক্ষমতাসীন আর এক নেতা সিগফ্রায়েড মুরিয়ানের কথায়, ‘‘আমরা ইইউ-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিতে শীঘ্রই অনুমোদন দিতাম। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।’’ ইউরোপের বাণিজ্য সমঝোতাকারী কারিন কার্লসব্রো আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, ‘‘শুল্ক সমঝোতায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার কোনও কারণ এই মুহূর্তে আমি দেখতে পাচ্ছি না। বরং আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’’ পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা অবশ্য নিশ্চিত করেননি কার্লসব্রো।
ইউরোপের যে আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা, তার মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস্। এই সমস্ত দেশ থেকে যে সব পণ্য আমেরিকায় রফতানি করা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তার উপর ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনে শুল্কের পরিমাণ বেড়ে হতে পারে ২৫ শতাংশ। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সমঝোতা না-হওয়া পর্যন্ত শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। ব্রিটেন, ফ্রান্স, সুইডেন-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।