Advertisement
E-Paper

১০,০০০ করে ড্রোন তৈরি হয় প্রতি মাসে, এই দিয়েই আগামী কয়েক মাস হরমুজ় প্রণালীকে ‘বন্ধ’ করে রাখতে পারে ইরান!

ড্রোন প্রস্তুতকারক দেশগুলির মধ্যে বিশ্বের প্রথম সারিতে রয়েছে ইরান। প্রতি মাসে তেহরান প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির ক্ষমতা রাখে। এমনটাই জানাচ্ছে ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রকের অনুদানে চলা সংস্থা সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ২৩:১৩
হরমুজ় প্রণালী।

হরমুজ় প্রণালী। —ফাইল চিত্র।

ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা হরমুজ় প্রণালীকে আগামী কয়েক মাস ধরে স্তব্ধ করে রাখতে পারে। গোয়েন্দা এবং সামরিক বিশেষজ্ঞ সূত্রে এমনটাই দাবি করছে রয়টার্স। তবে যে ভাবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান, তা আরও কত দিন ধরে তারা চালিয়ে যেতে পারবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একযোগে ইরানে হামলা করে। তার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রের উপর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। গত কয়েক দিনে শ’য়ে শ’য়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। ড্রোন ছুড়েছে ১০০০টিরও বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগ হামলাই ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কিছু আটকানো যায়নি। সেগুলি গিয়ে পড়েছে বাণিজ্যিক ভবনে, আবাসনে, আবার কোনওটি গিয়ে পড়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে।

ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রকের অনুদানে চলা সংস্থা সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স জানাচ্ছে, ড্রোন প্রস্তুতকারক দেশগুলির মধ্যে বিশ্বের প্রথম সারিতে রয়েছে ইরান। প্রতি মাসে তেহরান প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির ক্ষমতা রাখে। তবে ইরানের কাছে কত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ইজ়রায়েলি সামরিক বাহিনীর অনুমান, তেহরানের কাছে প্রায় ২৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। যদিও অন্য বিশ্লেষকদের মতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৬০০০-এর আশপাশেও হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ কত দিন চলতে পারে, বা এই সংঘর্ষের গতিপথ কেমন থাকবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে ইরানের অস্ত্রভান্ডারের উপরে।

ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ় প্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। হরমুজ় প্রণালী হল ইরান এবং ওমানের মাঝে এক সরু জলপথ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ় দিয়ে কোনও জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলেই তাতে হামলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। বেশ কিছু জাহাজে ইতিমধ্যে হামলা হয়েও গিয়েছে। হরমুজ় প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যেও। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স জানাচ্ছে, কৌশলগত সুবিধার জন্য বন্ধু গোষ্ঠীগুলিকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে থাকতে পারে ইরান। লেবাননের হিজ়বুল্লা এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করায় ইরানের নিজস্ব মজুত কিছুটা কমে যেতে পারে। তা ছাড়া গত বছরের জুনেও সংঘর্ষের সময়ে ওই ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কিছুটা কমেছিল। তবে ইজ়রায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ইতিমধ্যে বেশ কিছুটা পূরণ করে নিয়েছে ইরান। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে ইরানের প্রতিবন্ধকতা হতে পারে উৎক্ষেপণকেন্দ্র (লঞ্চার)-এর অভাব। গত বছরের সংঘর্ষে বেশ কিছু লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে। গত শনিবার থেকে তা আরও কমেছে বলে দাবি ব্রিটিশ সংস্থার।

তবে এই ধাক্কাগুলির পরেও ইরান ড্রোন দিয়ে সংঘর্ষ চালিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক ফারজিন নাদিমির মতে, ইরানের কাছে আধুনিক শাহেদ-১৩৬ ড্রোন রয়েছে। এর পাল্লা ৭০০-১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। যা ইরানের মূল ভূখণ্ড বা জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে পারস্য এবং ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলের যে কোনও লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট।

US Iran Strait of Hormuz
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy